রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভের মধ্যে দ্রুত বিচার দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্কলার মডেল স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে আলমডাঙ্গা উপজেলার পারকুলা আনন্দবাজার এলাকায় স্কলার মডেল স্কুল ও হানেমা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে রামিসা হত্যাকাণ্ডের আসামিদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তারা বলেন, শিশুটিকে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা সমাজে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ প্রতিরোধে বার্তা যায়।
বক্তারা বলেন, সভ্য সমাজে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের মতে, বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা অপরাধ প্রবণতা কমাতে বাধা তৈরি করে।তারা আরও দাবি করেন, মামলার বিচার কার্যক্রম যেন অযথা দীর্ঘায়িত না হয় এবং দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়।
আরও পড়ুন…রামিসার হত্যাকারী সোহেলের পক্ষে মামলা লড়বেন না ঢাকা বারের কোনো আইনজীবী
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স্কলার মডেল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো. আতিকুর রহমান শাহাবুল, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, হানেমা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-সদস্য এবং স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবী থানার মিল্লাত ক্যাম্পসংলগ্ন একটি বাসায় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।
পরদিন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
এদিকে, গত বুধবার (২০ মে) আদালতে তোলা হয়ে সোহেল নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। এও জানান, ঘটনার আগে তিনি ইয়াবা সেবন করেছিলেন। রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও দ্রুত বিচারের দাবিতে কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.