মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চট্টগ্রামে ৬০ কোটির জাহাজ, ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ

ইবাংলা.প্রেস | চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | ৪ জুন, ২০২৬

ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া একটি বিশাল কেমিক্যাল ট্যাংকার জাহাজ চট্টগ্রাম উপকূলে আটকা পড়েছে। ফলে দেশের জাহাজ ভাঙা শিল্পে নতুন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রায় ৬১ কোটি টাকা মূল্যের ‘মেমেই’ নামের জাহাজটি ভাঙার জন্য বাংলাদেশে আনা হলেও এখন সেটি ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

Islami Bank

আরও পড়ুন… দেশের প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

জানা গেছে, ৪৪ হাজার ৮০০ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই জাহাজটি গত ২২ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। ১৯৯৭ সালে নির্মিত পালাউ পতাকাবাহী জাহাজটি দীর্ঘদিন ধরে তেল ও রাসায়নিক পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

তবে জাহাজটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) এটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, জাহাজটি ২০২৪ সালে ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ছিল। একই সঙ্গে জাহাজটির নিবন্ধিত মালিক প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

one pherma

নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে জাহাজটি আর চট্টগ্রামের কোনো শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে এটি বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসএন করপোরেশন জাহাজটি মূল মালিকের কাছে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জাহাজটি কেনার সময় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানা থাকলে এ ধরনের আর্থিক ঝুঁকি নেওয়া হতো না। নিষেধাজ্ঞার কারণে জাহাজটির ভাঙা, মালিকানা হস্তান্তর এবং আর্থিক লেনদেন—সব ক্ষেত্রেই জটিলতা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত জাহাজ দেশের শিপব্রেকিং শিল্পে প্রবেশ করলে ভবিষ্যতে আরও বড় বাণিজ্যিক ও আইনি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই এ ধরনের জাহাজ আমদানির ক্ষেত্রে আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

বর্তমানে জাহাজটি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় নোঙর করে রয়েছে এবং সেটি ফেরত পাঠানোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ইবাংলা.প্রেস/ বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us