ভেঙে ফেলা হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৭ জুলাই ২০২৬

ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশদ্বারে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে শ্রমিকদের এই স্থাপনাটি ভাঙতে দেখা গেলেও, এটি অপসারণের পেছনে কারা রয়েছে বা কী উদ্দেশ্যে এই কাজ করা হচ্ছে— তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কোনো কর্তাব্যক্তিই স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারছেন না। এ ঘটনায় তীব্র বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় সচেতন মহলে।

Islami Bank

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলার কাজ চলছে। যারা ভাঙার কাজ করছেন, তারা সরাসরি কোনো সদুত্তর না দিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের দিকে আঙুল তুলছেন।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান দায় এড়িয়ে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন এবং জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

আরও পড়ুন…ব্রাজিলের পণ্যে নতুন ২৫ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

তবে, ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানান, জেলা প্রশাসন এই স্থাপনাটি ভাঙছে না। আমি দায়িত্ব গ্রহণের অনেক আগে থেকেই ভাস্কর্যটি সরিয়ে নেওয়ার একটি সিদ্ধান্ত ছিল। সম্ভবত, সড়ক বিভাগ বা পৌরসভা সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে।

তবে, আমরা জেলা পুলিশ লাইনসের সামনে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি নতুন প্রতিকৃতি নির্মাণের পরিকল্পনা করছি।এ বিষয়ে পরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বলেন, ভাস্কর্য অপসারণের বিষয়ে কিছু জানেন না।

অন্যদিকে, জেলা পরিষদের প্রশাসক এম মাজিদ জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ভাস্কর্যটি একাধিকবার ভাঙচুরের শিকার হয় এবং এটি সড়কের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

one pherma

তবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ভাঙার কাজটি কারা পরিচালনা করছে, তা তার জানা নেই।এ বিষয়ে ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর বলেন, সংসদ অধিবেশন চলছে এবং গত কয়েক দিন ধরে আমি ঢাকায় আছি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি জানি না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে ঝিনাইদহ পৌরসভা শহরের প্রবেশমুখে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মরণে একটি চত্বর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত তার কাঙ্ক্ষিত রূপ পায়নি।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল হক বলেন, দেশের প্রতিটি জেলায় এমন ভাস্কর্য বা স্মৃতিস্তম্ভ থাকে যা আমাদের ঐতিহ্য বহন করে। বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতিবিজড়িত চত্বরটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে, অথচ সাধারণ মানুষ জানতেই পারছে না কেন এটি করা হচ্ছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান আমাদের জাতীয় বীর। তার নামে চত্বরটি থাকলে নতুন প্রজন্ম তার আত্মত্যাগের গল্প জানত। এভাবে স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজারের ধলাই সীমান্তঘাঁটি দখলের লড়াইয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ হন সিপাহী হামিদুর রহমান।

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া এই অকুতোভয় বীরকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us