প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর জন্য ৩ মিলিয়ন ডলার দেবে অস্ট্রেলিয়া

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৭ অক্টোবর ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর উপকূল ও নদীতীর সুরক্ষা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ফিজির নাদি শহরে প্রি-কপ৩১ সম্মেলন চলাকালে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ু ও জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন এ ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, ‘ক্লাইমেট ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফর রেজিলিয়েন্ট কোস্টলাইনস অ্যান্ড রিভারব্যাংকস’ বা ‘সারকার’ প্রকল্পের মাধ্যমে এ অর্থ দেওয়া হবে। ফিজি, পাপুয়া নিউগিনি, কিরিবাতি ও টুভালুকে কেন্দ্র করে মোট চারটি প্রকল্পে অর্থ ব্যয় করা হবে।

ফিজিতে প্রকল্পটির আওতায় দেশটির মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলের কিংস রোড ও কুইন্স রোড উন্নয়ন ও সংস্কারে সহায়তা দেওয়া হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় ভাঙন এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় এসব অবকাঠামোকে আরও স্থিতিস্থাপক করে তোলাই প্রকল্পের লক্ষ্য।

আরও পড়ুন…প্রি-কপ৩১-এ বিদ্যুতায়ন ত্বরান্বিত করার আহ্বান ‘ইলেকট্রিফাই নাও’ ক্যাম্পেইনের

ক্রিস বোয়েন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এখনই স্থিতিস্থাপকতা ও অভিযোজনের জন্য বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। বর্তমানে দুর্যোগের পর পুনরুদ্ধার এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো তৈরিতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর মোট দেশজ উৎপাদনের বড় একটি অংশ ব্যয় হচ্ছে। এখন বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও পুনরুদ্ধারের ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ফিজির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন্ডা তাবুয়া বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এসব দেশের জন্য ভবিষ্যতের কোনো দূরবর্তী হুমকি নয়; এর প্রভাব এখনই মানুষের জীবনে পড়ছে।

তাবুয়া জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় সড়কগুলো ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। অনেক সড়ক উঁচু করে পুনর্নির্মাণ বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য দুর্যোগে অনেক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

টুভালুর উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে দেশটির সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ২১ সেন্টিমিটার বেড়েছে। ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা অত্যন্ত তীব্র।

এদিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য ‘প্যাসিফিক রেজিলিয়েন্স ফ্যাসিলিটি’ গঠনে ফিজি ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ডেনমার্কও এ তহবিলে ২ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

ফিজির এই অর্থায়নের বিষয়ে লিন্ডা তাবুয়া বলেন, এটি এককালীন অর্থপ্রদান নয়; সময়ের সঙ্গে দেশের জাতীয় বাজেটের সক্ষমতা বিবেচনা করে অর্থ দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে সক্ষমতা থাকলে ফিজি এ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ আরও বাড়াতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন বলেন, প্যাসিফিক রেজিলিয়েন্স ফ্যাসিলিটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর জন্য তৈরি এবং এসব দেশের প্রয়োজনকে কেন্দ্র করেই এর পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশকে এ উদ্যোগে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এ তহবিলের লক্ষ্য মোট ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা। সংবাদ সম্মেলনে লিন্ডা তাবুয়া বলেন, প্রি-কপ৩১ থেকেই এ উদ্যোগের জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।

প্রি-কপ৩১ সম্মেলনে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে উঠে এসেছে সমুদ্র ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি কপ৩১-এর আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা। তাবুয়া বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল মূলত একটি ‘নীল মহাদেশ’ এবং এসব দেশের অর্থনীতি ও অস্তিত্ব সমুদ্রের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

তিনি বলেন, কপ৩১-এর সভাপতি তুরস্ক এবং আলোচনার চেয়ার অস্ট্রেলিয়া সমুদ্রকে জলবায়ু আলোচনার এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি এগিয়ে নিচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, প্রি-কপ৩১-এর প্লেনারি অধিবেশনে আগের দিন নেতারা জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে একটি যৌথ ঘোষণা অনুমোদন করেছেন। ক্রিস বোয়েন বলেন, কপ৩১-এর জন্য এটি একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার জলবায়ুমন্ত্রী বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসতে হলে একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পুরোনো জ্বালানি ব্যবস্থার বিকল্প তৈরি না করে শুধু জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসা সম্ভব নয়। অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ রূপান্তরের পথে এগোচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রি-কপ৩১ সম্মেলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার টুভালু সফরের কথাও তুলে ধরেন বোয়েন। তিনি বলেন, টুভালু বিশ্বের সবচেয়ে কম ভ্রমণ করা দেশগুলোর একটি হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে দেশটির বিষয়গুলোকে আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রে নিয়ে আসা জরুরি।

সফরে বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী, জলবায়ু আলোচনার প্রধান প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।বোয়েন বলেন, টুভালু সফরের মাধ্যমে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর জলবায়ু সংকটকে কপ৩১-এর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় আরও সামনে নিয়ে আসার লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।

এ সময় অস্ট্রেলিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানি নীতির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বোয়েন বলেন, নিউ সাউথ ওয়েলসে এইচভিও কয়লা খনি সম্প্রসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরিবেশ ও পরিকল্পনামন্ত্রী ওয়াটের আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে আইন অনুযায়ী স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং অন্যান্য মন্ত্রীরও সেই প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান দেখানো উচিত।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে লিন্ডা তাবুয়া প্রি-কপ৩১ ফিজিতে আয়োজনের জন্য অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা ছাড়া ফিজি ও টুভালুতে এ ধরনের আয়োজন করা সম্ভব হতো না।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরও সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর লক্ষ্য হলো নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় নিজেদের ভূমিকা পালন করা এবং একই সঙ্গে বিশ্বের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা। কপ৩১-এ এসব অগ্রাধিকার আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

ইবাংলা বাএ

অস্ট্রেলিয়াডলারদেবে