ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ বুধবার।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাতের পর থেকেই সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার কথা জেলেদের।

তবে নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে আপাতত সাগরে যেতে পারছেন না তারা। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় বিরাজ করছে প্রতিকূল আবহাওয়া। উত্তাল রয়েছে বঙ্গোপসাগর।

এদিকে দীর্ঘদিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আর্থিক সংকটে পড়েছেন জেলে ও ট্রলারমালিকেরা। একদিকে ব্যবসায় লোকসান ও ঋণের বোঝা, অন্যদিকে বনদস্যু ও জলদস্যুদের আতঙ্ক সব মিলিয়ে নতুন মৌসুম শুরুতেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন…ডেঙ্গুতে ১১ জনের মৃত্যু

নিষেধাজ্ঞার সময় জাল মেরামত, ট্রলার সংস্কারসহ সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি শেষ করেছেন ট্রলারমালিক ও জেলেরা। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় এখন অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই তাদের।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) উপকূলীয় বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন মৎস্য আড়ত, জেলেপাড়া ও মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলেরা।

শরণখোলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটে নোঙর করে আছে অর্ধশতাধিক মাছ ধরার ট্রলার। শেষ মুহূর্তে জাল মেরামত করছেন জেলেরা। কেউ ট্রলারে তুলছেন জাল, কেউ নিচ্ছেন খাবার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। অন্যদিকে বরফ কলগুলোতেও বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। ট্রলারে মাছ সংরক্ষণের জন্য বরফ ভেঙে ছোট ছোট টুকরো করে তোলা হচ্ছে।

জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার পুরো সময় তারা জাল ও ট্রলার মেরামতের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এখন তাদের প্রধান অপেক্ষা আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার। উত্তাল সাগরে ট্রলার নিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আপাতত ঘাটেই থাকতে হচ্ছে।

মৎস্য আড়তদার মো. কবির হাওলাদার বলেন, এ বছর অধিকাংশ ব্যবসায়ী কমবেশি লোকসানের মুখে পড়েছেন। তার ৭ থেকে ৮টি ট্রলারে এক কোটিরও বেশি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে দাদন নামে পরিচিত।

গত মৌসুমে এসব ট্রলারের আহরিত মাছ ৩ থেকে ৪ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু চলতি মৌসুমে বিক্রির পরিমাণ নেমে এসেছে প্রায় এক কোটি টাকায়। বিভিন্ন উৎস থেকে টাকা সংগ্রহ করে ব্যবসায় বিনিয়োগ করায় এখন ঋণের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।

তিনি আরও বলেন, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও খারাপ আবহাওয়ার কারণে এখনই ট্রলার সাগরে পাঠানো যাচ্ছে না। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আগামী ২ ও ৩ নভেম্বর থেকে ট্রলারগুলো সাগরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আগেভাগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

শরণখোলা সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নিষেধাজ্ঞা শেষের প্রথম দিনেই সাগরে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আবহাওয়া ভালো হলে মাছ ধরার কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের লোকসানে ব্যবসায়ীরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এর পাশাপাশি রয়েছে সাগরে দস্যুদের উৎপাতের ভয়। জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দস্যু দমনে কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

শরণখোলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ইলিশ আহরণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে। এরপর সাগরে মাছ ধরতে নামলে জেলেরা আশানুরূপ ইলিশ পেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রথম দিন থেকেই সাগরে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জেলেরা যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে মাছ ধরতে পারেন, সে জন্য বনদস্যু ও জলদস্যু দমনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইবাংলা বাএ

ইংলিশধরারনিষেধাজ্ঞাশেষ