যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ঢাবিতে গ্রেফতার ৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জল নামে এক ‘ভারসাম্যহীন’ যুবককে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ৬ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম সাহাবুদ্দিন শাহীন গণমাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকা সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টোরিয়াল বডি ওই ৬ শিক্ষার্থীকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করে।

তারা হলেন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী জালাল আহমেদ, মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সুমন, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মুত্তাকীন সাকিন, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের আল হোসেন সাজ্জাদ এবং গণিত বিভাগের আহসান উল্লাহ ও ওয়াজিবুল আলম ।

এই ৬ জনকে পুলিশে সোপর্দের কথা নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহবাগ থানায় মামলার আবেদন জানিয়ে এজাহার দায়ের করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে আবেদনটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

জানা যায়, বুধবার রাত ৮টার দিকে তোফাজ্জলকে আটক করেন ফজলুল হক হলের শিক্ষার্থীরা। রাত ১২টার দিকে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাত ২টার দিকে তার মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

আরো পড়ুন ঃছয় ব্যাংকের এমডি নিয়োগ বাতিল

নিহত ব্যক্তির নাম তোফাজ্জল। তার বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠাল তলি ইউনিয়নে। তার বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। জানা যায়, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছিলেন।

একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপসম্পাদক জালাল আহমেদসহ হলের ৮-১০ জন শিক্ষার্থী তোফাজ্জলকে মারধর করছেন।

 

আরো পড়ুন ঃপুলিশকে সত্যিকারের জনবান্ধব হওয়ার নির্দেশ

ভোর সাড়ে ৪টায় প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজে যান। সেখান থেকে পরে হল প্রাঙ্গণে এসে হলের পুরাতন ভবনের গেস্টরুম ও এক্সেটেনশনের গেস্টরুম ঘুরে দেখেন। এই দুটি গেস্টরুমেই তোফাজ্জলকে মারা হয়। এসময় তিনি দুটি রুম সিলগালা করে দেন।