ইসলামাবাদে থেকে মুহাম্মদ হাসান
ব্যুরো প্রধান, খাইবার পাখতুনখোয়া (কোহাট), পাকিস্তান
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP27, ২০২২, মিশর)-এ ঘোষিত এবং COP28 (২০২৩, দুবাই)-এ আনুষ্ঠানিক রূপ পাওয়া লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড (LDF) পাকিস্তানের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক অর্জন হলেও অর্থায়নের দিক থেকে তা এখনও গুরুতরভাবে অপর্যাপ্ত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে ঘোষিত অর্থায়ন প্রায় ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক প্রয়োজন হবে প্রায় ২৯০ থেকে ৫৮০ বিলিয়ন ডলার।
মূল কাঠামো:
- ওয়ারশ ইন্টারন্যাশনাল মেকানিজম (WIM) – প্রযুক্তিগত দিকনির্দেশনা ও সমন্বয় প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম।
- সান্তিয়াগো নেটওয়ার্ক – ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে কারিগরি সহায়তা প্রদান ও সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ।
- লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড (LDF) – আর্থিক সহায়তার মূল উৎস।
এই তিনটি কাঠামো একত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় সহায়ক হলেও পাকিস্তানের দুর্বল প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়হীনতা কার্যকর অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করছে।
চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ:
- পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব নীতিগত পদক্ষেপকে দুর্বল করছে।
- ঘন ঘন কর্মকর্তাদের বদলি সান্তিয়াগো নেটওয়ার্কে সক্রিয় অংশগ্রহণ কমিয়ে দিয়েছে।
- অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নেটওয়ার্কটি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আগামী পথচলা:
আগামী COP29 (বাকু, আজারবাইজান)-এ আলোচনায় আসবে—
- তহবিলে প্রবেশাধিকার সহজ করার প্রক্রিয়া,
- স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা,
- তিনটি কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো,
- অ-অর্থনৈতিক ক্ষতি যেমন সংস্কৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর কৌশল প্রণয়ন।
বিশেষজ্ঞ মত:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “যতক্ষণ না উন্নত দেশগুলো লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে যথাযথ অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করছে, ততক্ষণ এই সাফল্য কেবল প্রতীকী থেকে যাবে।”
জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব মোকাবেলায় পাকিস্তানসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য কার্যকর অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।