ইসলামাবাদে থেকে মুহাম্মদ হাসান
ব্যুরো প্রধান, খাইবার পাখতুনখোয়া (কোহাট), পাকিস্তান
বর্তমান জলবায়ু নীতিমালা কার্যকর থাকলে শতাব্দীর শেষে বৈশ্বিক উষ্ণতা ৩.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাবে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। যা প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১.৫ ডিগ্রি সীমার দ্বিগুণেরও বেশি। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (UNEP) বার্ষিক এমিশনস গ্যাপ রিপোর্ট এ তথ্য উঠে এসেছে।
বৈশ্বিক নির্গমন বাড়ছেই:
রিপোর্টে বলা হয়, ২০২২ থেকে ২০২৩ সালে বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ১.৩ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৫৭.১ গিগাটন সমপরিমাণ CO₂-তে দাঁড়িয়েছে। যদিও দেশগুলো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ লক্ষ্য পূরণ করলে উষ্ণতা ২.৬ থেকে ২.৮ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে, তবে সেটিও বিপজ্জনক মাত্রা অতিক্রম করবে। বর্তমানে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই শিল্পপূর্ব যুগের তুলনায় প্রায় ১.৩ ডিগ্রি বেড়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের সতর্কবার্তা:
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বৃহস্পতিবার এক ভাষণে বলেন, “আমরা এক প্রকার গ্রহীয় তারের উপর দাঁড়িয়ে আছি। বিশ্বনেতারা যদি নির্গমন ব্যবধান পূরণ না করেন, তবে আমরা সরাসরি জলবায়ু বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হব।
আরও পড়ুন…শেখ হাসিনাকে ফেরাতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিল্লিতে
জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান:
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে রাখতে হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৪২ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫৭ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই লক্ষ্য অর্জন এখন কঠিন বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।
জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ইংগার অ্যান্ডারসেন দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেন, “প্রত্যেক দশমিক অংশের ডিগ্রি এড়ানোই গুরুত্বপূর্ণ। এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
সামনে গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু সম্মেলন:
আগামী মাসে আজারবাইজানের বাকুতে শুরু হবে জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলন (COP29)। সেখানে দেশগুলো নতুন করে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার কৌশল এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য হালনাগাদ জলবায়ু লক্ষ্য (NDC) নিয়ে আলোচনা করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সম্মেলন জলবায়ু সঙ্কট মোকাবিলার বৈশ্বিক অঙ্গীকারে গতি আনতে পারবে কি না, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।
ইবাংলা/ বাএ