তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরান গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ জুন ২০২৫) ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বীরশেবার একটি প্রধান হাসপাতালে সরাসরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় হাসপাতালটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
হামলার লক্ষ্য ছিল বীরশেবা শহরের ‘সোরোকা মেডিকেল সেন্টার’, যেটি দক্ষিণ ইসরায়েলের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ব্যাপক ধ্বংস দেখা দিয়েছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে যে এখন শুধুমাত্র গুরুতর আহত রোগীদের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেন, “ইরান আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। একটি হাসপাতাল কখনোই যুদ্ধক্ষেত্র হতে পারে না।
ইরান পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা শুধুমাত্র সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, এই ধরনের বেসামরিক স্থাপনায় হামলা সরাসরি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের শামিল।
ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী কড়া প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এই বর্বর হামলার মূল্য ইরানকে চোকাতেই হবে। আমরা প্রতিশোধ নেব এবং আমাদের জনগণের নিরাপত্তা রক্ষা করব।
আরও পড়ুন…ইসরায়েল-ইরান সংঘাত: জরুরি বৈঠক জাতিসংঘের
উল্লেখ্য, এই হামলার পূর্বে ইসরায়েল ইরানের আরাক ও নাটাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বিমান হামলা চালিয়েছিল। এর জবাবে ইরান শতাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়।
এই ঘটনায় ইসরায়েলে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে, ইরানও দাবি করেছে যে ইসরায়েলি হামলায় তাদের বহু বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে এই পাল্টাপাল্টি হামলা এখন আর সীমিত আকারে নেই। বিষয়টি এক বিস্তৃত যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে এবং এতে পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে।
সূএ: Times Of Israel