ইরান-ইসরাইল অগ্নিঝড়া সংঘাতের মধ্যেই দখলদার ইসরাইলের ঘনিষ্ট মিত্র ইরানের ৩টি পারমাণবিক স্থাপনায় হামালা চালিয়ে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের গুরওত্বপূর্ণ ৩টি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জবাবে ইরান এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করে কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আল-উদেইদ এয়ার বেস-এ শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই ঘটনায় রাজধানী দোহায় রাতে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এই শক্তিশালী হামলার সংবাদ প্রচার করেছে বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম।
সোমবার (২৩ জুন) রাতে বিধ্বংসী বিস্ফোরণের ফলে দোহার আকাশে ব্যাপক শব্দ ও আলো দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদে অবস্থানের নির্দেশ দেয়।
হামলার মূল লক্ষ্য ছিল কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আল-উদেইদ এয়ার বেস, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কৌশলগত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এটি CENTCOM-এর (United States Central Command) এক গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন সেন্টার।
আল-উদেইদ ঘাঁটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সেনা অভিযানগুলোর মূলকেন্দ্র। প্রাথমিক খবরে জানা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, তবে পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে এবং জানিয়েছে, “প্রাথমিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি, তবে তদন্ত চলছে।”
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড দাবি করেছে, “আমাদের সীমান্ত ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে বারবার আঘাত এসেছে। এবার আমরা পাল্টা জবাব দিয়েছি।” তবে তারা সরাসরি কাতারের ঘাঁটির নাম নেয়নি।
জাতিসংঘের মহাসচিব এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে হবে এবং সংলাপের পথে ফিরতে হবে।”
ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও কূটনৈতিক উত্তেজনা হ্রাসে আহ্বান জানিয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক অবনতির দিকে। ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা, সিরিয়ায় ড্রোন অভিযানের জবাব হিসেবে এই হামলা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হামলা শুধু কাতার নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করতে পারে। কূটনৈতিকভাবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
ইবাংলা/ বা এ