লবণাক্ত পানির আগ্রাসনে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সিন্ধু উপকূলের মানুষ: জাতিসংঘ

ইবাংলা.প্রেস । ২৪ জুন ২০২৫, মুবাশ্বির হুসেন, ব্যুরো প্রধান, বেলুচিস্তান (কোয়েটা)

সিন্ধু উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে শুধু কৃষি বা মৎস্য খাতই নয়, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও তীব্র প্রভাব পড়ছে। জাতিসংঘ স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সতর্ক করেছে, লবণাক্ত পানি ভূগর্ভস্থ পানির উৎসে প্রবেশ করায় পানীয় জলের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে এবং এর ফলে কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়রিয়ার মতো রোগ দ্রুত বাড়ছে।

বদিন জেলার গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রহিম বখশ ইবাংলা.প্রেসকে বলেন, “আমাদের কাছে প্রতিদিন ডজনখানেক রোগী আসে যাদের সমস্যা সরাসরি দূষিত ও লবণাক্ত পানির সঙ্গে সম্পর্কিত। পরিষ্কার পানি না থাকায় শিশু ও গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি ভুগছে।”

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে যদি পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতি না হয়, তবে সিন্ধু উপকূলের প্রায় ৩০ লাখ মানুষ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আগে টিউবওয়েল থেকে যে পানি সহজে পাওয়া যেত, এখন সেটিও তীব্র লবণাক্ত হয়ে গেছে। ফলে তাদের প্রতিদিন মাইলের পর মাইল হাঁটতে হচ্ছে নিরাপদ পানি সংগ্রহের জন্য।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানি পরিশোধন প্রকল্প, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং বিকল্প উৎস খোঁজা ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।

জাতিসংঘ আবারও জোর দিয়ে বলেছে—জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট এই স্বাস্থ্যঝুঁকিকে অবহেলা করলে তা আগামী প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে।

ইবাংলা বাএ

উপকূলেরজাতিসংঘমানুষসিন্ধু