এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, বর্তমানে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক নামে পরিচিত, যেখানে মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে ২৫ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন এবং ব্যাপক অর্থ আত্মসাতের ঘটনার জেরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বিকেলে দুদক মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “এই মামলার প্রাথমিক তদন্তে সুস্পষ্টভাবে প্রতারণা, নীতিমালার লঙ্ঘন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে কাজ করেছে। তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হবে।
আরও পড়ুন…বাংলাদেশ প্রথম দক্ষিণ এশীয় দেশ হিসেবে জাতিসংঘের পানি কনভেনশনে যোগদান
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ব্যাংকার ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর যোগসাজশে গ্রাহকের ঋণ পরিশোধ ক্ষমতা যাচাই, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ছাড়াই অসৎ উদ্দেশ্যে ঋণ দেয়া হয়েছে এবং তা আত্মসাতের মাধ্যমে লুকানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
অনুমোদিত ঋণটির বিপরীতে জামানত নেয়া হয়নি এবং ঋণগ্রহীতাদের প্রকৃত কার্যক্রম যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঋণ দেয়ার মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ঋণগ্রহীতারা তাদের ব্যাংক হিসাবের মধ্যে অর্থের লেয়ারিং করে মোট ২০ কোটি ৫২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই অর্থের গোপনীয়তা রক্ষা করতে নানা প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়েছে।
আসামিদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য নাম রয়েছে সাদ মুসা গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ মোহসিনের, যিনি একই সঙ্গে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের সাবেক পরিচালক এবং মাহমুদ সাজিদ কটন মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এছাড়াও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার এবং ব্যাংকের একাধিক সাবেক ও বর্তমান উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আসামি তালিকায় আছেন।
মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯ (বিশেষ ধরনের প্রতারণা), ৪২০ (ব্যাংক লেনদেনে প্রতারণা) এবং ১০৯ (সহযোগিতা), পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২)(৩) ধারাসহ অন্যান্য আইনগত ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন…দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের ৩ টি অভিযানে প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে অনিয়মের
দুদক সূত্র জানায়, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসেবে অভিযুক্তদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দ ও আরও কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে। এই কেলেঙ্কারির তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং তদন্তের পরিধি বিস্তৃত হতে পারে।
দুদক বলছেন, এই ধরনের অর্থপাচার ও ঋণ আত্মসাতের ঘটনা দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।