দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের তিনটি দুর্নীতি বিরোধী অভিযান

ইবাংলা.প্রেস ডেস্ক | ২৯ জুন ২০২৫, ঢাকা | দুর্নীতি বিরোধী অভিযান

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিট আজ রাজধানী ঢাকা, টাঙ্গাইল এবং চট্টগ্রামে তিনটি পৃথক দুর্নীতি বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে।

রোববার (২৯ জুন) দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের পৃথক ৩ টি দুর্নীতি বিরোধী অভিযান সংশ্লিষ্ট অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দুদকের সূত্রে জানা গেছে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে বিধিবহির্ভূতভাবে প্লট বরাদ্দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রোববার (২৯ জুন) দুদক প্রধান কার্যালয় হতে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান চালায়।

অভিযানকালে জানা যায়, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ২০০১ সালে বিচারপতি কোটায় আবেদন করে ০৪৪ নম্বর প্লট বরাদ্দ পান। ২০০৪ সালে বরাদ্দকৃত প্লটের কিস্তি তিনি পরিশোধ না করায় তা বাতিলের কথা থাকলেও বাতিল হয়নি। বরং, ২০০৯ সালে পুনরায় আবেদনের প্রেক্ষিতে শুধুমাত্র ১ম কিস্তি জমা দিয়ে, অবসর গ্রহণের পর বাকি অর্থ পরিশোধের শর্তে প্লটটি তিনি তার নামে পুনরায় বরাদ্দ নেন—যা সুস্পষ্ট অনিয়ম।
দুদক টিম সংশ্লিষ্ট রেকর্ড সংগ্রহ করেছে এবং এ বিষয়ে কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

ঘাটাইল বিদ্যুৎ অফিসে বিল জালিয়াতি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ: টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগে অতিরিক্ত বিল তৈরি এবং গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে দুদক টিম সরেজমিন তদন্তে নামে।

দিঘলকান্দি ইউনিয়নের আনার গ্রামে সরেজমিনে অনুসন্ধানকালে টিম দেখতে পায়, চার/পাঁচ মাস পরপর বিল প্রদান করে গ্রাহকদের ওপর একসাথে বড় অঙ্কের বকেয়া চাপানো হয়, যার ফলে গ্রাহকদের চরম হয়রানি পোহাতে হয়। এছাড়াও মিটার রিডিংয়ে অনিয়মের প্রমাণও মেলে। এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করা হবে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রামে গণপূর্ত বিভাগের বিরুদ্ধে দরপত্র ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিযোগ: চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জ এলাকার গণপূর্ত বিভাগ-২ এ দরপত্র ছাড়া বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ থেকে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অভিযোগ সম্পর্কে অবহিত করার পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়। প্রাথমিক পর্যালোচনায় গুরুতর অনিয়মের ইঙ্গিত মিলেছে। রেকর্ড বিশ্লেষণের ভিত্তিতে কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

দুদক সূত্র জানায়, এসব অভিযানের মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: ebangla.press

অভিযানদুর্নীতি বিরোধী