জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা এবং তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু করদাতা ও প্রতিষ্ঠান কর ও শুল্ক আদায়ের নামে দুর্নীতির অভিযোগে জড়িত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও কর ফাঁকির সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যা দেশের রাজস্ব হারিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কিছু কর কর্মকর্তা করদাতাদের কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে নিজেরা অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করেছেন। অনেকে আবার করদাতাদের প্রাপ্য রিফান্ড অর্থ প্রদান না করে ঘুষ বা উপহারের বিনিময়ে তা প্রদান করেন। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রিফান্ড অর্থ প্রাপ্তির জন্য অনেক করদাতাকে অবৈধভাবে ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয়, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতার পরিপন্থী।
সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ২০-২৫ বছরে কয়েকজন কর্মকর্তাসহ তাদের ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানগুলো শুল্ক, ভ্যাট ও আয়কর ফাঁকি দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। তারা নিজেদের ও পরিবারের নামে অজানা উৎসের বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন, যা দুঃশাসন ও দুর্নীতির সুস্পষ্ট প্রমাণ। এ প্রসঙ্গে দুদকের পক্ষ থেকে তথ্য অনুসন্ধান শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, তারা হলেন:
১) এ কে এম বদিউল আলম, সদস (আয়কর নীতি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড; ২) মির্জা আশিক রানা, অতিরিক্ত কর কমিশনার, কর অনচল-৮ ঢাকা; ৩) মোহাম্মদ মোরশেদ, উদ্দীন খান, যুগ্ম কর কমিশনার বিসিএস কর একাডেমি ৪) মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, উপ কর কমিশনার কর অঞ্চল-১৬, ঢাকা; ৫) হাছান তারেক রিকাবদার, অতিরিক্ত কমিশনার,নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মূল্য সংযোজন কর, ঢাকা; ৬) সাধন কুণ্ডু, অতিরিক্ত কমিশনার, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ), ঢাকা- এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন তথ্যঅনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে এ সকল কর্মকর্তার সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। সরকারি সূত্র বলছে, প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকবে। তাই সরকারের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এসব দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলা।