নারী ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ জানিয়েছেন, চলতি বছরের জুন মাসের প্রথম ১০ দিনেই কমপক্ষে ২৪টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তিনি এ অবস্থাকে “মহামারি” আখ্যা দিয়ে বলেন, “রাজনীতি, মাদক এবং অনলাইন পর্নোগ্রাফি -এই তিন কারণই সহিংসতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।”
আরও পড়ুন…সুষ্ঠু নির্বাচন করতে প্রস্তুত সেনাবাহিনী
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নারী ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ এসব কথা বলেন। নারী উপদেষ্টা আরও জানান, এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৫টি নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ জমা পড়েছে।
তিনি সরকারের সক্ষমতা উল্লেখ করে বলেন, “সব অভিযোগ একসঙ্গে নিষ্পত্তি সম্ভব নয়, কিন্তু জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগগুলো আমরা অগ্রাধিকার পাচ্ছি।” তবে, কাউন্সেলিং ও আইনি সহায়তা: শতাধিক নারীকে ইতিমধ্যে মানসিক ও আইনি সহায়তা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শারমীন মুরশিদ জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে নতুন আইন প্রণয়নের ভাবনা চলছে। বিশেষত মাদ্রাসাসহ ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো “চোখের আড়ালে” থাকায় সেখানে নজরদারি বাড়ানো হবে।
সহিংসতার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ সারাদেশেই সক্রিয় থাকবে। কোনো স্থানে নির্যাতনের খবর পাওয়া মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত ও সহায়তা দেবে। কুমিল্লার মুরাদনগরে সাম্প্রতিক ধর্ষণ-সংক্রান্ত অভিযোগে স্থানীয় ইউএনও-এর নেতৃত্বে একটি কুইক রেসপন্স টিম ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
উপদেষ্টা বলেন, “ঘরে বাইরে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক আমাদের তরুণ সমাজকে গ্রাস করছে। মাদকাসক্ত অপরাধীরা সহিংসতায় জড়াচ্ছে বেশি। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণ ছাড়া নারী ও শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন।”
এছাড়াও ইন্টারনেটে অবাধ পর্নোগ্রাফি ছড়িয়ে পড়ার কারণে কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে তরুণদের মানসিক গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন শারমীন মুরশিদ। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে “কড়া প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা” নেওয়ারও ইঙ্গিত দেন তিনি।
সবশেষ তিনি বলেন, মহামারি রূপ নেয়া নারী ও শিশু নির্যাতন মোকাবিলায় উপদেষ্টা সারাবছর ব্যাপী সচেতনতা কার্যক্রম চালু রাখার ঘোষণা দেন। “আমাদের লড়াই শুধু আইন দিয়ে নয়, সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেও এগিয়ে নিতে হবে,”।
ইবাংলা বাএ