নোয়াখালী জেলায় টানা বৃষ্টিপাতে চরম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে পানি বেড়েছে ১৯ সেন্টিমিটার। যদিও এখনও নদীর পানি বিপদসীমার নিচে রয়েছে, তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন…বাঁধ ভেঙে ফেনীর ৩০ গ্রাম প্লাবিত, ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা
টানা বৃষ্টির প্রভাবে নোয়াখালীর সদর, কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও সুবর্ণচর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে, ডুবে গেছে সড়ক ও বাজার এলাকা। মুছাপুর, রামপুর ও চর এলাহী ইউনিয়নের ছোট ফেনী নদী ও বামনী নদীর তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। মুছাপুর ইউনিয়নের প্রায় সব সড়ক পানির নিচে চলে গেছে। পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে হাজারো মানুষ।
পরিস্থিতির অবনতি বিবেচনায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ১০ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে শিক্ষকরা নিয়মমাফিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকবেন। প্রয়োজনে এসব বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে।
জেলা সদর মাইজদী শহরের বেশিরভাগ সড়কেই উঠেছে হাঁটুসমান পানি। স্টেডিয়াম পাড়া, ডিসি সড়ক, জেলখানা সড়ক, হরিনারায়ণপুর, লক্ষ্মীনারায়ণপুর, হাউজিং এলাকাগুলোর নিচতলার ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। বেশিরভাগ বাসিন্দা পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চলতি বর্ষায় শহরের রাস্তাগুলোতে ব্যাপক খানাখন্দ তৈরি হয়েছে, যা এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হালিম সালেহী বলেন, “টানা বৃষ্টির কারণেই জেলার পানি বেড়েছে। রাতের বৃষ্টির ওপর পরিস্থিতি অনেকটা নির্ভর করছে। তবে বৃষ্টি কমে গেলে পরিস্থিতি দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, “জলাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য বন্যা মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। প্রতিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যে কোনো প্রয়োজনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
ইবাংলা বাএ