প্লাস্টিক দূষণ মোকাবেলায় বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে জাতিসংঘ ও বিমস্টেক

ইবাংলা.প্রেস | পরিবেশ সংবাদ | ১০ জুলাই ২০২৫ | বৃহস্পতিবার | ঢাকা

প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাজধানীর পরিবেশ অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় “বাংলাদেশে প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে সমাধান ত্বরান্বিতকরণ” শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সেমিনার।

এই আয়োজনটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করে পরিবেশ অধিদফতর, জাতিসংঘের UNOPS, এবং বঙ্গোপসাগরীয় বহুপাক্ষিক প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা (বিমস্টেক)। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৫-এর প্রতিপাদ্যের আলোকে আয়োজিত এই সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংগঠন, তরুণ সমাজ ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন…আইন মন্ত্রণালয়ে ১১৫ প্রতীকের তালিকা

সেমিনারের উদ্বোধন করেন সুধীর মুরলিধরণ, কান্ট্রি ম্যানেজার, UNOPS বাংলাদেশ ও ভুটান। সভাপতিত্ব করেন ড. মোঃ কামরুজ্জামান, এনডিসি, মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদফতর। বক্তৃতা করেন মোঃ ওবায়দুর রহমান, সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং ইন্দ্র মণি পান্ডে, মহাসচিব, বিমস্টেক।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর বাংলাদেশের সামুদ্রিক পরিবেশে প্রায় ৮৭ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য প্রবেশ করে, যা দেশের পরিবেশ, অর্থনীতি এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুতর হুমকি। এই বাস্তবতায়, আলোচনায় উঠে আসে ২০২০-২০৩০ জাতীয় টেকসই প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন কৌশল।

এই পরিকল্পনার অধীনে ২০২৬ সালের মধ্যে— ৩০% প্লাস্টিক বর্জ্য হ্রাস, ৫০% পুনর্ব্যবহার, এবং ৯০% একক-ব্যবহারযোগ্য টার্গেটেড প্লাস্টিক নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেমিনারে আলোচিত হয় উদ্ভাবনী অর্থায়ন পদ্ধতি, আচরণগত পরিবর্তন কৌশল, গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবন।

ইন্দ্র মণি পান্ডে বলেন, “প্লাস্টিক দূষণ একটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সমস্যা। বিমস্টেক প্লাস্টিক-বুদ্ধিমান বঙ্গোপসাগর অঞ্চল গড়তে আন্তরিকভাবে কাজ করবে।”
শিল্প সচিব মোঃ ওবায়দুর রহমান বলেন, “শিল্প উন্নয়নের প্রতিটি ধাপে পরিবেশ সুরক্ষা যুক্ত করতে হবে। এই সেমিনার সেই পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

আরও পড়ুন…স্রেব্রেনিকা গণহত্যা দিবসে জাতিসংঘ মহাসচিবের বার্তা

পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. কামরুজ্জামান বলেন, “আমরা উদ্ভাবন ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে প্লাস্টিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।”
UNOPS কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরলিধরণ বলেন, “প্লাস্টিক দূষণ শুধু পরিবেশগত নয়, এটা পরিকাঠামো ও আচরণগত চ্যালেঞ্জও বটে। একসঙ্গে কাজ করলেই সফলতা সম্ভব।”

সেমিনারে একটি যৌথ ঘোষণা (Joint Communiqué) প্রকাশ ও সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা গৃহীত হয়। পাশাপাশি সরকার-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, সবুজ অর্থায়ন এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে চক্রাকার অর্থনীতির দিকেও অগ্রসর হওয়ার ডাক দেওয়া হয়।

সম্পাদনা: মহিব উল্যাহ আজিম

ইবাংলা/ বা এ

যৌথযৌথ উদ্যোগসঙ্গেসরকারের