হাসনাইন হায়দার, ব্যুরো চিফ, খাইবার পাখতুনখাওয়া (মর্দান), পাকিস্তান
পাকিস্তানে চলতি বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে অর্ধশতাধিকই শিশু। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (এনডিএমএ) এ তথ্য জানিয়েছে।
সরকারি হিসাবে দেখা যায়, ২৬ জুন থেকে ১৪ জুলাইয়ের মধ্যে মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল জমে থাকা পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া। একই সময়ে আকস্মিক বন্যায়ও বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। জুনের শেষ দিকে একটি নদীর তীরে আশ্রয় নিতে গিয়ে অন্তত ১৩ জন পর্যটক স্রোতে ভেসে মারা যান।
আরও পড়ুন…রাঙামাটিতে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ
সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে ৫৩ জনই শিশু। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে পাঞ্জাব প্রদেশে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে, আগামী দিনগুলোতে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে আরও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নগর এলাকায় জলাবদ্ধতা, ভূমিধস এবং অবকাঠামোর ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বর্ষাকাল দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য হলেও প্রায় প্রতি বছরই এটি প্রাণঘাতী বন্যা, ভূমিধস ও ঘরবাড়ি ধসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মৌসুমি বৃষ্টির ধরণ পাল্টে যাচ্ছে, ফলে পাকিস্তানের মতো দেশগুলো আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে।
২০২২ সালে ভয়াবহ বন্যায় পাকিস্তানের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পানিতে ডুবে যায় এবং ১ হাজার ৭০০ জনের মৃত্যু হয়। কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও অনেক অঞ্চল এখনো সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। চলতি বছরও বর্ষার শুরুতেই একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ২৪ কোটিরও বেশি মানুষ জলবায়ুগত ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।
ইবাংলা.প্রেস/ বাএ