ইস্রাফিল:
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দীর্ঘমেয়াদি বাজেট প্রস্তাব ঘিরে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। বুধবার (১৬ জুলাই)ইউরোপীয় কমিশন প্রস্তাব উন্মোচনের পর থেকেই আগামী দুই বছরের জন্য জটিল আলোচনার মঞ্চ প্রস্তুত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রস্তাবিত সংস্কার কৃষি ভর্তুকি নিয়ে আবারো কৃষকদের ক্ষোভ বাড়াতে পারে।
বাজেটের চাপ ও নতুন কর পরিকল্পনা:
কমিশন প্রধান উরসুলা ভন ডার লেনকে এখন একাধিক অগ্রাধিকারের ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে—নিরাপত্তা জোরদার, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বজায় রাখা এবং ২০২৮ সাল থেকে মহামারির সময় নেওয়া ঋণ পরিশোধ।
ইইউর আগের বাজেট (২০২১–২০২৭) ছিল প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ইউরো, কিন্তু এবার কোভিডকালীন ৮০০ বিলিয়ন ইউরো ঋণ শোধের চাপ অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য বাজেট বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই বলে মনে করছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যরা।
আরও পড়ুন…রণক্ষেত্র গোপালগঞ্জ
নতুন আয়ের উৎস হিসেবে কমিশন প্রস্তাব করেছে বড় কোম্পানির ওপর অতিরিক্ত কর, তামাক শুল্ক বৃদ্ধি এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য নয় এমন ইলেকট্রনিক বর্জ্যের ওপর কর আরোপ। তবে সংসদের কেন্দ্রপন্থী সদস্য ফাবিয়েন কেলার বলছেন, এগুলো “না টেকসই, না যথেষ্ট”।
কৃষি খাতেই সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব:
ইইউর বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ যায় কৃষি ভর্তুকিতে, যা কমন এগ্রিকালচারাল পলিসি (কপ) নামে পরিচিত। বর্তমানে কপ বাজেট প্রায় ৩৮৭ বিলিয়ন ইউরো, যার মধ্যে ২৭০ বিলিয়ন ইউরো সরাসরি কৃষকদের দেওয়া হয়।
কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী এই ভর্তুকি একটি নতুন “জাতীয় ও আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব তহবিলের” মধ্যে একীভূত হতে পারে। কৃষকদের আশঙ্কা, এতে তারা কম সহায়তা পাবেন।
এ কারণে বুধবার ব্রাসেলসে কমিশন ভবনের সামনে শত শত কৃষকের বিক্ষোভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছরও ইউরোপজুড়ে কৃষকরা সস্তা আমদানি, পরিবেশগত নিয়ম এবং কম লাভজনক বাজারমূল্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন।
বিতর্কিত সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব:
কৃষকদের সরাসরি সহায়তার ক্ষেত্রে প্রতি হেক্টরে সর্বোচ্চ ১০০,০০০ ইউরো সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে কমিশন। তবে এটি ব্যাপক সমর্থন পাবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সামনে কঠিন সমঝোতা:
ইইউ সংসদ সদস্য সিগফ্রিড মুরেশান বলেন, “একই বাজেট বা কম বাজেট নিয়ে ইউনিয়ন বেশি কিছু করতে পারবে না, তাই বাজেট বৃদ্ধি অবশ্যম্ভাবী।”
তবে নতুন ব্যয় ও প্রতিযোগিতামূলক চ্যালেঞ্জের মুখে বাজেট আলোচনা দীর্ঘ ও জটিল আকার ধারণ করবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।