একদিনে তিন স্থানে দুদকের এনফোর্সমেন্ট অভিযান

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০ জুলাই ২০২৫, শনিবার

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিট আজ শনিবার (২০ জুলাই ২০২৫) দেশের তিনটি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছে। চট্টগ্রাম, সিলেট ও সাভারে পরিচালিত এসব অভিযানে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ, রাস্তা নির্মাণে অনিয়ম এবং হাসপাতাল সেবায় দুর্নীতিসহ একাধিক অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অভিযান ১: চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ভূমি অফিসে জালিয়াতির অভিযোগ: চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ সার্কেল ভূমি অফিসে জমির শ্রেণি পরিবর্তন, জাল খতিয়ান ও ভুয়া সুপারিশ সনদ তৈরির মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে অভিযান চালায় দুদকের চট্টগ্রাম-১ জেলা কার্যালয়।
অভিযানকালে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট রেকর্ড সংগ্রহ করে এনফোর্সমেন্ট টিম। পর্যালোচনায় দেখা যায়, একজনের নামে নামজারির আবেদন থাকলেও খতিয়ান সৃজন করা হয়েছে অন্যজনের নামে। এমনকি পরিত্যক্ত সম্পত্তির বিএস জরিপ ব্যক্তি মালিকানায় দেখানো হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় স্বার্থে স্পষ্ট ক্ষতিকর। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অসাধু যোগসাজশে রাষ্ট্রের সম্পদ আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। বিষয়টি নিয়ে কমিশনের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে দুদক টিম।

 

আরও পড়ুন…আদালতে প্রধান আসামি মহিনের স্বীকারোক্তি :,মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড

অভিযান ২: সিলেটের সড়ক নির্মাণে গাফিলতি: সিলেটের বিয়ানীবাজারে মাথিউরা-মিনারাই সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, সিলেট। অভিযানকালে নিরপেক্ষ প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে সরেজমিনে সড়কটি পরিদর্শন করা হয়। দেখা যায়, একটি বৃহৎ গাছের মোটা ডাল ঝুঁকে থাকায় সড়ক দিয়ে যান চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপ করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত করে দুদক। বিষয়টি নিয়ে বিশদ অনুসন্ধানের পর কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

 

অভিযান ৩: এনাম মেডিকেল কলেজে হয়রানি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ: সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের হয়রানি, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ভর্তি অনিয়মসহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালায় দুদকের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা।

অভিযানে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়—একজন চিকিৎসককে নিয়মবহির্ভূতভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, রোগীদের খাবারের তালিকা ও মূল্য নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগের পেছনে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ভর্তি সংক্রান্ত নথি, মেন্যু ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে এনফোর্সমেন্ট টিম সেবা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পরামর্শও দিয়েছে। সব তথ্য বিশ্লেষণ করে কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানায় টিম।

দুর্নীতি দমন কমিশনের একাধিক টিমের এই সমন্বিত অভিযান দেশের দুর্নীতিবিরোধী অভিযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইবাংলা বাএ

অভিযানএনফোর্সমেন্টদুদকের