খাদ্য সংগ্রহে আসা ৮৫ ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করল ইসরায়েল

ইবাংলা.প্রেস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গাজায় মানবিক সহায়তার জন্য জড়ো হওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর বর্বর গুলিবর্ষণ চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। রোববার (২০ জুলাই) উত্তর গাজার জিকিম সীমান্ত, রাফাহ ও খান ইউনিসে খাবারের জন্য অপেক্ষমাণ অন্তত ৮৫ জন ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে ‘খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের বেশিরভাগই উত্তর গাজার বাসিন্দা। এর মধ্যে ৬৯ জন জিকিম সীমান্তে জাতিসংঘের ত্রাণবাহী ট্রাকের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এই মুহূর্তে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে তারা প্রাণ হারান।

এ বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, ত্রাণকেন্দ্রে হাজারো ফিলিস্তিনির জড়ো হওয়া তাদের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল। ফলে তারা ‘সতর্কতামূলক গুলি’ চালায়। যদিও তারা সরাসরি কোনো ত্রাণবাহী যানবাহনকে লক্ষ্য করেনি বলেও দাবি করেছে। তবে গাজার কর্তৃপক্ষ বলছে, নিহতের সংখ্যা কোনোভাবেই অতিরঞ্জিত নয়, বরং বাস্তবতা আরও ভয়াবহ।

আরও পড়ুন…খাবারে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত নেতানিয়াহু

ডব্লিউএফপির নিন্দা: ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) জানায়, রোববার গাজায় প্রবেশ করা ২৫টি খাদ্যবাহী ট্রাকের আশেপাশে হাজারো ক্ষুধার্ত মানুষের ভিড় ছিল। তখনই গুলির ঘটনা ঘটে। সংস্থাটি বলেছে, ‘ত্রাণের জন্য অপেক্ষমাণ বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

আরও প্রাণহানি: রোববার গাজা জুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলা ও ছোড়া গুলিতে মোট ৯০ জন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ গাজার একটি স্থানে ইসরায়েলি হামলায় আরও ছয় জন নিহত হন। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েল তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

হামাসের এক কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানান, গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়, খাবারের সংকট ও ইসরায়েলি হামলা ফিলিস্তিনিদের ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলছে। এই ক্ষোভ কাতারে চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনা ও চুক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইবাংলা বাএ

ইসরায়েলকরলকরেগুলিহত্যা