দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিট আজ দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছে। সরকারি অর্থের অপচয়, নিয়োগে অনিয়ম, দরপত্রে দুর্নীতি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাবসহ নানাবিধ অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান ০১: বাংলাদেশ রেলওয়ের “লাগেজ ভ্যান প্রকল্প“: ঢাকা থেকে পরিচালিত এই অভিযানে সরকার অনুমোদিত “লাগেজ ভ্যান প্রকল্পে” সেবার অনিয়ম ও অর্থ অপচয়ের অভিযোগে তদন্ত করা হয়।
কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ও জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, ট্রেনের টয়লেটের জন্য বরাদ্দকৃত উপকরণ (সাবান, হ্যান্ডওয়াশ, টিস্যু, এয়ার ফ্রেশনার ইত্যাদি) সরবরাহ করা হয়নি, অথচ রেজিস্ট্রারে সেগুলোর ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়েছে। এতে যাত্রীসেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং সরকারি অর্থের অপচয় ঘটছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।
অভিযান ০২: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম: নোবিপ্রবিতে শিক্ষক নিয়োগে ইউজিসি প্রণীত নিয়োগ নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে নোয়াখালী জেলা কার্যালয় হতে অভিযান পরিচালিত হয়। প্রো-ভিসির সঙ্গে সরাসরি আলোচনা এবং আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নিয়োগ সংক্রান্ত রেকর্ড সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন…প্রধান উপদেষ্টার শোক, মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস্ত
অভিযান ০৩: মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানিতে আউটসোর্সিং দুর্নীতি: দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানিতে আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক টিম প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে এবং দরপত্র সংক্রান্ত নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য সংগ্রহ করে।
অভিযান ০৪: পার্বত্য চট্টগ্রামে দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পে অনিয়ম: “কফি ও কাজুবাদাম চাষ প্রকল্প” বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাঙ্গামাটি উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট ৬টি বাগান পরিদর্শন করে এনফোর্সমেন্ট টিম। উপকারভোগীদের সাক্ষাৎকার এবং রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে প্রকল্পের বাস্তবচিত্র যাচাই করা হয়।
প্রতিটি অভিযানের পর এনফোর্সমেন্ট টিম কর্তৃক সংগৃহীত তথ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানানো হয়েছে।