বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে আজ ঢাকার পেট্রোবাংলায় কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড (কেজিডিসিএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেড (কাফকো)-এর মধ্যে একটি গ্যাস বিক্রয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে কাফকো-তে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে, যা দেশের কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরাসরি অবদান রাখবে।
এই চুক্তি অনুযায়ী, কেজিডিসিএল কাফকো-কে গড়ে দৈনিক ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট (MMCFD) হারে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করবে। এই বিপুল পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ কাফকোর সার উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কেজিডিসিএল-এর পক্ষে কোম্পানির সচিব কবির উদ্দিন আহম্মদ এবং কাফকো’র পক্ষে সিসিও এবং কোম্পানি সচিব খাজা সাইদুর রহমান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ওবায়দুর রহমান, কেজিডিসিএল-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এস এম মঈন উদ্দীন আহম্মেদ, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান, বিসিআইসি চেয়ারম্যান মোঃ ফজলুর রহমান এবং কেজিডিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, কাফকো এবং পেট্রোবাংলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
আরও পড়ুন…৯৬০ কোটি টাকার জালিয়াতিতে সাবেক মন্ত্রীসহ দুদকের মামলা
চুক্তি স্বাক্ষর শেষে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফেকা)- এর পক্ষে শিল্প সচিব মোঃ ওবায়দুর রহমান কেজিডিসিএল-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এস এম মঈন উদ্দীন আহম্মেদ এর নিকট বকেয়া গ্যাস বিল বাবদ ৯২৩ কোটি ৮১ লক্ষ ১৮ হাজার ৬১৬ টাকা এবং ডিমান্ড চার্জ বাবদ ৩৪ কোটি ৩৭ লক্ষ ৩৫ হাজার ৮৪৮ টাকার দুটি চেক হস্থান্তর করেন।
এছাড়া কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌ. সালাহউদ্দিন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মোঃ রেজানুর রহমান এর নিকট বকেয়া বাবদ ৬৩৪ কোটি ১ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৬৫ টাকার চেক হস্থান্তর করেন।
সংশ্লিষ্টরা বলেন এ চুক্তি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায়, বিশেষ করে কৃষিভিত্তিক শিল্পে জ্বালানি নিরাপত্তা সুদৃঢ় করার সরকারের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
এটি কাফকোর মতো বৃহৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং স্থানীয়ভাবে সার উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমাতেও অবদান রাখবে। এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের শিল্প ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলেও আশা করেন তারা।