রমজানের আগে ফেব্রুয়ারি মাসেই জাতীয় নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা

ইবাংলা.প্রেস | মাইনুল হোসেন পিন্নু | ৫ আগস্ট ২০২৫

ছাব্বিসের ফেব্রুয়ারি মাসেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠাবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এ তথ্য জানান তিনি।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাত ৮টা ২০ মিনিটে ভাষণ শুরু করা ভাষনে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠাবেন, যেন নির্বাচন কমিশন আগামী রমজানের আগে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

আরও পড়ুন…গণঅভ্যুত্থানকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেবে রাষ্ট্র: প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা বলেন বহু বছর জনগণ ভোট দিতে পারেনি। এবার সবাই ভোট দেবে, কেউ বাদ যাবে না। সবাই যেন বলতে পারে নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে সবাই নিজের ভোটটা দিতে পেরেছেন।

সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সবার সহযোগিতা চেয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সকলেই দোয়া করবেন যেন সুন্দরভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান করে এ দেশের সকল নাগরিক একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার কাজে সফলভাবে এগিয়ে যেতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে এই নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখরভাবে সম্পন্ন করা যায় সেজন্য সকল প্রকার সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান করার আশ্বাস ও দেন তিনি।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে যেন আনন্দ-উৎসব, শান্তি-শৃঙ্খলা , ভোটার উপস্থিতি, সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতা দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকে সেজন্য সকল আয়োজন সম্পন্ন করতে আগামীকাল থেকে সবাইকে মানসিক প্রস্তুতি ও প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন শুরু করতে হবে।

নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নির্বাচন আসছে যদি আপনি আপনার নির্বাচনী এলাকা থেকে দূরে বসবাস করেন তবে এখন থেকে নিয়মিত নির্বাচনী এলাকা পরিদর্শন করুন। যাতে সেরা ব্যক্তিকে নির্বাচিত করতে আপনি প্রস্তুত হতে পারেন। যাদের তাজা রক্তের বিনিময়ে আমরা আমাদের এই অতি মূল্যবান অধিকার ফিরে পেলাম, ভোটটা দেবার আগ মুহূর্তে যেন তাদের চেহারা আমাদের চোখে ভেসে ওঠে।

দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসের মাথায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে দেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে ডক্টর ইউনুস বলেন  অবশ্যই আমি তা করবো। তবে নির্বাচনের আগে জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদসহ অত্যাবশ্যকীয় কয়েকটি কাজ সম্পন্ন করার কথা বলেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের তিনটি দায়িত্ব ছিল: সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। জুলাই অভ্যুত্থানের ছাত্র-শ্রমিক-জনতা দেয়ালে দেয়ালে যে প্রত্যাশার কথা লিখে রেখেছিল তার অন্যতম ফোকাস ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কার। সে লক্ষ্যে আমরা বেশ কয়েকটি সংস্কার কমিশন গঠন করেছিলাম। তাদের মধ্যে প্রধান প্রধান সংস্কার কমিশনগুলো যে সুপারিশ পেশ করেছে সেগুলোর মধ্যে স্বল্প সময়ের মধ্যে আশু বাস্তবায়নযোগ্য বহু সংস্কার আমরা ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছি।

তিনি বলেন, এই সংস্কারগুলোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক খাত, বিচার ব্যবস্থা ও জনপ্রশাসনে গতিশীলতা আসবে; স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। দুর্নীতি, অনিয়ম ও হয়রানি হ্রাস পাবে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এবার আমাদের সর্বশেষ দায়িত্ব পালনের পালা। নির্বাচন অনুষ্ঠান। আজ এই মহান দিবসে আপনাদের সামনে এ বক্তব্য রাখার পর থেকেই আমরা আমাদের সর্বশেষ এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করব। আমরা এবার একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করব।

আরও পড়ুন…যা যা আছে জুলাই ঘোষণাপত্রে

প্রবাসীদের ভোট নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে ভোটারদের সম্পর্কে দু-একটা কথা বলতে চাই। এবার আমরা প্রবাসী ভোটারদের ভোট দেওয়ার আয়োজন নিশ্চিত করতে চাই।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক দিক থেকে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ যে আবার দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে তার বড় কারণ হলো আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ঐতিহাসিক অবদান। নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নারী ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আনতে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নারী ভোটাররা যেন দেশের সর্বত্র নির্দ্বিধায় আনন্দ-উৎসাহে তাদের ভোট দিতে পারে এটা নিশ্চিত করা হবে। এবার যেন কেন্দ্রে কেন্দ্রে নারী ভোটারদের ঢল নামে সেই লক্ষ্যে সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস।

ইবাংলা বাএ

জানালেননির্বাচনেরসময়