দুদকের সারা দেশে তিন অভিযানে অনিয়মের প্রমাণ

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ১১ আগস্ট ২০২৫

আজ (১০ আগস্ট ২০২৫) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিট সারা দেশে তিনটি পৃথক অভিযানে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সেবাখাতে নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও আর্থিক অব্যবস্থাপনার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে।

এসব অভিযানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে নথি, রেকর্ডপত্র ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। যাচাই–বাছাই শেষে কমিশনের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

ডেসকোতে প্রকল্প অনিয়ম ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় গুরুতর ত্রুটি:
ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডে (ডেসকো) একাধিক বড় প্রকল্পে অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্যয় এবং বিনিয়োগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ঘাটতির অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে অভিযান চালানো হয়।

ঢাকা পাওয়ার সিস্টেম এক্সপ্যানশন অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং প্রজেক্ট’, ‘২ লাখ স্মার্ট মিটার ক্রয়’, ‘টেস্টিং বেঞ্চ ক্রয়’, ‘স্ক্যাডা প্রকল্প’ এবং ‘ডেটা সেন্টার এসটাবলিশিং’ প্রকল্পের নথিপত্র সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হয়। প্রাথমিকভাবে এসব প্রকল্পে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ মেলে। জানা যায়, ২ লাখ স্মার্ট মিটার ক্রয় প্রকল্প অনিয়মের কারণে সম্প্রতি বাতিল হয়েছে।

এছাড়া অর্থ শাখার রেকর্ডে দেখা যায়, ডেসকো পদ্মা ব্যাংক পিএলসি-তে ১৯ কোটি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি-তে ২৫ কোটি টাকা এফডিআর বিনিয়োগ করেছিল।

আরও পড়ুন…ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা মালয়েশিয়ার উদ্দেশে

কিন্তু মেয়াদ পূর্তির পরও এ অর্থ নগদায়ন করা সম্ভব হয়নি। টিমের মতে, ডেসকো এফডিআর পলিসির নির্দেশনা ও বিনিয়োগের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি।

চুয়াডাঙ্গা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে ঘুষ ও অনিয়ম:
চুয়াডাঙ্গা জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন ও অফিসের নিয়ম-নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঝিনাইদহ থেকে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যা পর্যালোচনা শেষে কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হবে।

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবায় অনিয়ম:
কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা প্রদানে হয়রানি, রোগীর প্রতি অবহেলা ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কুমিল্লা অভিযান চালায়।

অভিযানে টিম আউটডোর ও ওয়ার্ড পরিদর্শন করে রোগীদের সঙ্গে ঔষধ, খাবার ও সেবা প্রাপ্তি নিয়ে কথা বলে। ছদ্মবেশে পর্যবেক্ষণকালে কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়।

রোগীদের খাবার সরবরাহের ক্ষেত্রে একাধিক অনিয়ম ধরা পড়ে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেজিস্টার যাচাইয়েও অসঙ্গতির প্রমাণ মেলে। বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

ইবাংলা বাএ

অনিয়মেরঅভিযানেপ্রমাণ