রোহিঙ্গা সংকট জটিল হওয়ায় বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হচ্ছে। মিয়ানমারের পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের মানবিক সংকটের প্রতি মনোযোগ দিতে সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। বিশেষ করে আগামী মাসে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনকে সামনে রেখে এই সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে।
পশ্চিমা বিশ্বের ১১টি দেশ—অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইডেন, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও ফিনল্যান্ড—ঢাকায় যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আট বছর পেরোনোর পরও আমরা মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ড স্মরণ করছি, যার ফলে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়। এখনো ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে রয়েছেন এবং নতুনদের আগমন চলছে।
আরও পড়ুন…রাঙামাটিতে ৩৬ কাঠুরিয়া হত্যার বিচারসহ পরিবারদের পুর্নবাসনের দাবিতে স্মারকলিপি
বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের দৃঢ়তা ও সহনশীলতার প্রশংসা করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের সরকার ও সাধারণ জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে, যারা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রত্যাবাসনের সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে এখনও সীমান্ত পেরিয়ে বাস্তুচ্যুতি অব্যাহত রয়েছে।
১১ দেশের যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও সম্মানজনকভাবে প্রত্যাবর্তনের জন্য মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সহিংসতা বন্ধ ও মানবিক সহায়তা অবাধে প্রবেশের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অতিমাত্রায় কমে আসা মানবিক তহবিলের পরিস্থিতিতে, রোহিঙ্গাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এবং স্থানীয় বাংলাদেশি জনগণের সহায়তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তারা রোহিঙ্গাদের অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন, যাতে তারা নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারে।