দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দেশের তিন জেলায় পৃথক এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে। এতে সরকারি প্রকল্প, ভূমি রেজিস্ট্রি ও স্বাস্থ্য খাতে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র সামনে এসেছে।
অভিযান ০১: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রকল্পে অনিয়ম তদন্ত:
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের লাইভস্টক ও ডেইরী ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে দুদক প্রধান কার্যালয়, ঢাকা থেকে একটি দল প্রকল্প অফিসে অভিযান চালায়।
দলটি সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে এবং বর্তমান প্রকল্প পরিচালকের বক্তব্য গ্রহণ করে। অভিযোগের বিষয়ে গভীরতর অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও প্রমাণাদি কমিশনের কাছে চাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন…নবীনগরে প্রচণ্ড গরমে-২২ ছাত্রী অসুস্থ, সদর হাসপাতালে ভর্তি-৪
অভিযান ০২: জমি রেজিস্ট্রিতে ঘুষের অভিযোগ:
ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জমি রেজিস্ট্রির কাজে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঝিনাইদহ থেকে অভিযান পরিচালিত হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, রেজিস্ট্রেশনের সময় সাব-রেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্টরা যোগসাজশে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করেন। তবে অভিযান চলাকালে দালিলিক প্রমাণ মেলেনি। টিম সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেছে এবং তা যাচাই শেষে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করবে।
অভিযান ০৩: সিলেটের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম:
সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবায় অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, সিলেট একটি অভিযান পরিচালনা করে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভর্তিকৃত রোগীদের নিয়মিত খাবার সরবরাহ করা হয় না এবং যা দেয়া হয় তার মান নিম্নমানের। এছাড়া সরকারি ওষুধ পর্যাপ্ত থাকলেও রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করা হয়।
সরকারি ওষুধ সমহারে বিতরণ না করার প্রমাণও পাওয়া যায়।এছাড়া, একজন এম্বুলেন্স চালক দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম-নীতি না মেনে একই স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রয়োজনীয় লগবই হালনাগাদ না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব কর্মকাণ্ড রোগীদের ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে দুদকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
দুদক জানিয়েছে, প্রতিটি অভিযানের প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।