দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর অনুসন্ধানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী মো: আব্দুর রাজ্জাক এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মো: আব্দুর রাজ্জাক:
দুদকের রেকর্ড অনুযায়ী, তার নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৯০ লাখ ৯২ হাজার ৮৬ টাকা। একই সময়ে তিনি পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় করেছেন ২ কোটি ৮১ লাখ ৪৫ হাজার ২০৪ টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট অর্জিত সম্পদ দাঁড়ায় ৬ কোটি ৭২ লাখ ৩৭ হাজার ২৯০ টাকা।
কিন্তু বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ৪ কোটি ৭৭ লাখ ৬৪ হাজার ৯১৬ টাকা। অর্থাৎ তার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৯৪ লাখ ৭২ হাজার ৩৭৪ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এছাড়া, ২০০২-০৩ করবর্ষ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর রিটার্নে তিনি অন্যান্য প্রাপ্তি বাবদ ১ কোটি ৩৫ লাখ ৯৭ হাজার ৮৩৫ টাকা দেখালেও এর কোনো বৈধ কাগজপত্র বা ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
আরও পড়ুন…নবীনগরে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি নিয়ে ফেসবুকে তোলপাড়
স্ত্রী শিরিন আক্তার বানু:
তার স্ত্রীর নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৭৭ লাখ ৩০ হাজার ৫১১ টাকা। পারিবারিক ব্যয়সহ মোট খরচ ৫১ লাখ ২৬ হাজার ৯৯১ টাকা। সব মিলিয়ে তার অর্জিত সম্পদ দাঁড়ায় ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫৭ হাজার ৫০২ টাকা।
কিন্তু বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ২ কোটি ৩৭ লাখ ৮৫ হাজার ৬১২ টাকা। ফলে তার নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ দাঁড়ায় ৯০ লাখ ৭১ হাজার ৮৯০ টাকা। এছাড়া, আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ৫৭২ টাকা প্রাপ্তির কোনো রেকর্ডপত্রও তিনি দিতে ব্যর্থ হন।
ছেলে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত:
তার ছেলে রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের নামে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৮২ টাকা। একই সঙ্গে পারিবারিক ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মোট সম্পদ দাঁড়ায় ১ কোটি ২৪ লাখ ৮১ হাজার ৮৩ টাকা।
কিন্তু বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ৭৩ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৩ টাকা। ফলে তার নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ৫১ লাখ ১২ হাজার ১০০ টাকা।