প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলের প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক শেষে দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বৈঠকে আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল।
তিনি বলেন, “নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে করণীয়, এবং তা বানচালের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা—এসব নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে।” বৈঠকে প্রশাসন থেকে ফ্যাসিবাদের দালালদের সরানোর দাবি উত্থাপন করে জামায়াত।
নায়েবে আমির আরও বলেন, “একটা নীলনকশার নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি কিনা, সে প্রশ্ন উঠেছে। লন্ডনে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা নজিরবিহীন ঘটনা। সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। যদি পরিকল্পিত নির্বাচন হয়, তবে গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা কঠিন হয়ে যাবে।”
নির্বাচনের তারিখ নিয়ে দ্বিমত নেই জানালেও নির্বাচনের কার্যকারিতা নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন তিনি। তাহের বলেন, ৩১টি দলের মধ্যে ২৫টি দল পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়।
আরও পড়ুন…দুদকের ৩ অভিযানে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ মিলল
জামায়াতসহ অনেকেই উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি সমর্থন করছে। তাঁর ভাষায়, “কেন্দ্র দখল ঠেকাতে এই পদ্ধতি জরুরি। মেজরিটিকে অবজ্ঞা করে চাপিয়ে দেওয়া কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। জামায়াতের দাবি, এই সনদের অধীনে নির্বাচন হতে হবে, নইলে তা হবে শহীদদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা। তাহের অভিযোগ করেন, কয়েকটি দল এই সনদ বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছে।
এছাড়া নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানায় জামায়াত। তাহের বলেন, “নুরের ওপর হামলার ষড়যন্ত্র গভীর। সবার বিচার হতে হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। “এক গ্রুপ বাসস্ট্যান্ড দখল করেছে, এখন আরেক গ্রুপ নিয়েছে। সরকার হাত পা ছেড়ে দিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। তবে এখনো উত্তরণ সম্ভব, সরকারের আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন।”
বৈঠকে আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে জাতীয় পার্টির ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। তাহেরের মতে, “যেভাবে আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।