প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে কাজ করার কথা বলে গঠিত সূচনা ফাউন্ডেশনকে ঘিরে ভয়াবহ দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সদস্য, ট্রাস্টি ও সহযোগীসহ মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মামলার অভিযোগ:
দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে ফাউন্ডেশনের নামে বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৯৩০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে সরাসরি আত্মসাৎ করা হয়েছে প্রায় ৪৪৮ কোটি টাকা। এছাড়া ৯৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ট্যাক্স ফাঁকি, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি ও মিথ্যা হিসাব দেখিয়ে আরও বিপুল অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে ব্যবহারের কথা বলে সংগৃহীত অর্থ ব্যক্তিগত ভোগ-বিলাসে ব্যবহার করা হয়েছে। ১৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হলেও সেখান থেকে নিয়মিতভাবে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ তোলা হয়।
মামলার আসামির তালিকা:
দুদক দায়ের করা মামলায় মোট ৩৫ জনের নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন ইতিমধ্যেই মারা গেছেন, ফলে কার্যত ৩১ জন জীবিত আসামির বিরুদ্ধে মামলা চলছে।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—
মো. শফিকুল আলম – নির্বাহী সদস্য, সূচনা ফাউন্ডেশন
খালেদ আহমেদ – ট্রাস্টি
মেহেদী হাসান – প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ
আসমা বেগম – নির্বাহী পরিচালক
নুরুল কবির – ব্যবসায়ী ও দাতা সদস্য
সেলিম রেজা – সাবেক পরিচালক (অর্থ)
মো. আব্দুস সাত্তার – রাজস্ব কর্মকর্তা (এনবিআর)
মো. মিজানুর রহমান – সহকারী কর কমিশনার
তানভীর হোসেন – হিসাবরক্ষক
মো. সাইফুল ইসলাম – ব্যাংক কর্মকর্তা
আরিফুল ইসলাম – ব্যাংক কর্মকর্তা
রুবিনা খান – ট্রাস্টি সদস্য
শামীম আহমেদ – ব্যবসায়ী
মাহবুবুর রহমান – ব্যবসায়ী
ফারহানা ইয়াসমিন – সমন্বয়ক
কামরুল হাসান – দাতা সদস্য
আতিকুর রহমান – প্রজেক্ট ম্যানেজার
হোসনে আরা বেগম – ট্রাস্টি
শফিকুল ইসলাম – সাবেক এনবিআর কর্মকর্তা
মাহমুদুল হক – হিসাব সহকারী
শহীদুল্লাহ – ব্যবসায়ী
নাসরিন জাহান – প্রজেক্ট কর্মকর্তা
তৌহিদুল ইসলাম – দাতা প্রতিনিধি
জাহিদ হাসান – সাবেক ব্যাংক ম্যানেজার
আবদুল খালেক – আর্থিক উপদেষ্টা
হুমায়ুন কবির – দাতা সদস্য
জাকির হোসেন – এনজিও প্রতিনিধি
রাশেদুল ইসলাম – ব্যবসায়ী
রওশন আরা – নির্বাহী কর্মকর্তা
সাদেকুল ইসলাম – ব্যাংক কর্মকর্তা
জোবায়ের আহমেদ – হিসাবরক্ষক
(মৃত চারজন আসামির নাম বাদ দেওয়া হয়েছে)
তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ:
দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার প্রাথমিক তদন্ত শেষ হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হবে। অর্থ আত্মসাৎ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদক আইনজীবী।
এদিকে, মামলায় নাম আসা কয়েকজন আসামি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তারা নির্দোষ এবং প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের জড়ানো হয়েছে।