মতিউর রহমান,সরিষাবাড়ি,জামালপুরঃ সরিষাবাড়ি উপজেলার ডোয়াইন ইউনিয়ন নদী বেষ্টিত অনগ্রসর একটি ইউনিয়ন। প্রমত্তা যমুনার শাখা ঝিনাই নদী বিভক্ত করেছে সরিষাবাড়ি- ধনবাড়ি উপজেলাকে।
১৯১৯ সালে তদানিন্তন জমিদার পত্নী মোনোমোহিনী তাঁর প্রিয়তমা স্বামী মহেশ চন্দ্রের নামে ৫ :৭ একর জমিতে অনগ্রসর এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের আশায় ডোয়াইল চাপার কোণা এলাকায় গড়ে তুলে ছিলেন মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়।
পাশেই রয়েছে ৩নং ডোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদ,ডোয়াইল ভুমি অফিস চাপার কোণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাপার কোণা বাজার,সেনালী ব্যাংক চাপার কোণা শাখা,গ্রামীন ব্যাংক চাপার কোণা জোনাল অফিস, মসজিদ ও একটি মক্তব এবং শ্মশান ঘাট।
তুলনা মূলক ভাবে চাপার কোণা এলাকাটি ডোযাইন ইউনিয়নের জন গুরুত্ব পূর্ণ এলাকা বটে। কিন্তু চাপার কোণা বাজারের পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে চলা ঝিনাই নদীর উপর কোন ন্রীজ না থাকায় নদীর পূর্ব প্রান্তের অন্ততঃ ১০-১৫ টি গ্রামের শত শত স্কুল কলেজ গামী শিক্ষার্থীরা প্রায় তিন কিলোমিটার রস্তা ঘুরে স্কুল কলেজে আসে।
আরও পড়ুন…শিক্ষাকে আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য আন্তর্জাতিক দিবসের বার্তা
জরুরী মুহুর্তে গর্ভবতী মহিলা,শিশু বয়োবৃদ্ধ বা গুরুতর অসুস্থ্য ব্যক্তিরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিতে পেয়ে অনেকেই রোগ শোকে কাতর বা কেহ বা মৃত্যুর কোলেও ঢলে পড়ার মতো ঘটনা রয়েছে।
কৃষকদের কৃষি পণ্য সঠিক সময়ে বাজারে পৌছাতে পারেন না।ইউনিয়ন পরিষদ,ভুমি অফিস, ব্যাংক বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে সেবা প্রার্থীদেরও তিন কিলো রাস্তা ঘুরে চরম কষ্টে সেবা নিতে আসতে হয়।
ডোয়াইল ইউনিয়নে একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকলেও কোন কলেজ না থাকায় এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চতর শিক্ষার কথা ভেবে মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ও স্থানীয় বিদ্যানুরাগীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন মহেশ চন্দ্র মহা বিদ্যালয়।
১ম বর্ষে (২৪-২৫ইং) শিক্ষা বর্ষে মানবিক বিজ্ঞান ও বাণিজ্য শাখায় মোট ৭০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী ও বিদ্যানুরাগীদের অভিযোগ অনেক দূর পথ ঘুরে কলেজে আসার বিড়ম্বনায় শিক্ষার্থীদের অনাগ্র।
অপর দিকে অন্যান্য অফিস বা প্রতিষ্ঠানে সেবা প্রার্থীদের মাঝেও একি প্রশ্ন দানা বেধেছে। ঝিনাই নদীতে ব্রীজ না থাকায় চলতি বর্ষা মৌসুমে খেয়া নৌকা থেকে পড়ে স্রোতে তলীয়ে এক কিশোরের মৃত্যুও হয়েছে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন,ঝিনাই নদীতে ব্রীজ নির্মানের বিষয়ে অনেকেই আশ্বস্ত করে ছিলেন কিন্ত দুঃখ জনক হলেও সত্য অদ্যাবধি ন্রীজ নির্মানের বিষয়টি বাস্তবে আলোর মুখ দেখেনি। ঝিনাই নদীতে ব্রীজ নির্মান হলে স্কুলে কলেজের শিক্ষার্থী ও অন্যান্য সুবিধা ভোগীদের যাতায়াতের কষ্ট লাগব,সময় অপচয় রোধ সহ বাড়বে শিক্ষার্থী ও সেবা গ্রহিতাদের সংখ্যাও।
উল্লেখ্য,প্রাচিনতম বিদ্যাপিঠ মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় হতে শিক্ষা লাভ করেন ডাক বিভাগের সাবেক মহা পরিচালক বদিউজ্জামান সাবেক বাণিজ্য সচীব তোফাজ্জল হোসেন,জাতীয় পুরষ্কার প্রাপ্ত শিক্ষা বিষয়ক গবেষক সরকার আবুল হোসেনসহ অসংখ্য দেশ প্রেমিক গুনিজন।
২০২৫ ইং সনে এসএসসি পরীক্ষায় অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী অবন্তিকা ১২৩৫ নম্বর পেয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলায় মেথা তালিকসয় ১ম স্থান অর্জনসহ জেলায় ৩ য় স্থান অর্জন করে বিদ্যাপিঠের সুনাম অক্ষুন্ন রেখেছে।
সরকারের প্রতি শিক্ষার্থী শিক্ষক মন্ডলী সেবা প্রার্থী সচেতন মহল ও বিদ্যানুরাগীদের দাবী ঝিনাই নদীর উপর ব্রীজ নির্মানের। যোগাযোগের ব্যবস্থা উন্নত করলে কমবে সর্বস্তরের কষ্ট বাড়বে শিক্ষার্থীসহ সেবা প্রার্থীর সংখ্যা এবং রাজস্ব আয় তেমনটি প্রত্যাশা সর্বমহলের।