ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি থেকে জামানত ও কার্যাদেশ ছাড়াই ১৫০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন ও উত্তোলনের ঘটনায় সিকদার গ্রুপের প্রভাবশালী সদস্য, ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ মোট ২৬ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি মামলা রুজু করেছে।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, জনাব জন হক সিকদার, প্রোপ্রাইটর, বেঙ্গল ও এন্ড এম সার্ভিসেস এর আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর কারওয়ান বাজার শাখায় একটি হিসাব খোলার দিনই ১৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়।
ঋণের উদ্দেশ্যে “পাওয়ার প্লান্টের ২টি কার্যাদেশ” প্রদর্শন করা হলেও কোনো কার্যাদেশ পাওয়া যায়নি। একইভাবে প্রতিশ্রুত জামানতও পরে প্রদান করা হয়নি।
আরও পড়ুন…পুকুরে ধসে পড়ল ক্লাসরুম পাঁচ শিক্ষার্থী নিয়ে
২০১৯ সালের ২৭ জানুয়ারি ব্যাংকের ২০৫তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় ঋণটি অনুমোদিত হয় এবং ২০১৯ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি এক দিনে ১২টি ডিলে পুরো অর্থ ডিসবার্সমেন্ট করা হয়।
একই দিনে সিকদার গ্রুপ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হিসাবে কোটি কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়। পরে পে-অর্ডারের মাধ্যমে অর্থ অন্য ব্যাংকে নিয়ে পুনরায় সিকদার পরিবারের নিয়ন্ত্রিত হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।
দুদকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি পূর্বপরিকল্পিত যোগসাজশের মাধ্যমে প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানিলন্ডারিংয়ের একটি স্পষ্ট উদাহরণ। এ ঘটনায় ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ একাধিক সাবেক পরিচালক এবং সিকদার পরিবারের সদস্যদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এছাড়া অনুসন্ধানে আসামি মো: মোতাজ্জেরুল ইসলাম (মিঠু)-এর নামে ৭৫ কোটি টাকারও বেশি অসঙ্গতিপূর্ণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য মিলেছে।দুদক আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধে এ মামলা রুজু করা হয়েছে।