জলবায়ু পরিবর্তনে রাজনৈতিক নয়, আইনি বাধ্যবাধকতা: আইসিজে

সম্পাদনা: তাহমনিা ইয়াসমিন │আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ইবাংলা.প্রেস | বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) সম্প্রতি তাদের বহুল আলোচিত পরামর্শমূলক মতামত প্রকাশ করেছে। এই মতামত জলবায়ু কার্যক্রমকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। আদালত স্পষ্ট করেছে— জলবায়ু কার্যক্রম আর কেবল রাজনৈতিক ইচ্ছার প্রশ্ন নয়, বরং একটি আন্তর্জাতিক আইনি কর্তব্য।

আরও পড়ুন…ট্রাম্পের সহযোগী শার্লি কার্ককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

জাতিসংঘের উদ্যোগে আইসিজে:
২০২৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (UNGA) ধীরগতির জলবায়ু আলোচনায় হতাশা প্রকাশ করে আইসিজেকে অনুরোধ জানায়, রাষ্ট্রগুলোর জলবায়ু-সংক্রান্ত আইনি বাধ্যবাধকতা ও তা ভঙ্গের পরিণতি স্পষ্ট করতে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত দ্বীপরাষ্ট্রগুলো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা প্রশ্নে আদালতের রায় প্রত্যাশিত ছিল।

আইসিজের প্রধান ব্যাখ্যা:
১৪০ পৃষ্ঠার বিস্তারিত মতামতে আদালত জানিয়েছে—
১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা এখন প্যারিস চুক্তির অধীনে বাধ্যতামূলক লক্ষ্য।
বড় দূষণকারী দেশগুলোকে সর্বোচ্চ বৈজ্ঞানিক মান অনুযায়ী নির্গমন হ্রাস করতে হবে।

রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব কেবল জলবায়ু চুক্তিতেই সীমাবদ্ধ নয়; আন্তর্জাতিক রীতি ও প্রথা অনুযায়ী সীমান্ত অতিক্রমী ক্ষতি প্রতিরোধ, সতর্কতা অবলম্বন ও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া তাদের বাধ্যবাধকতা।

প্রতিটি রাষ্ট্রের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDCs) স্বেচ্ছাচারী নয়; এগুলোকে প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য অর্জনের মতো উচ্চাভিলাষী হতে হবে।

কোনো রাষ্ট্র যদি জীবাশ্ম জ্বালানির উৎপাদন, ভোগ, ভর্তুকি বা অনুমোদনের মাধ্যমে নির্গমন কমাতে ব্যর্থ হয়, তবে তা আন্তর্জাতিক আইনে বেআইনি কর্মকাণ্ড হিসেবে গণ্য হবে।

মানবাধিকার ও রাষ্ট্রত্ব:
আইসিজে বলেছে, সুস্থ ও টেকসই পরিবেশে বসবাস মানবাধিকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাষ্ট্রগুলো অভিযোজন ও সহযোগিতার বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি প্রযুক্তি ও আর্থিক সহায়তা দিতে বাধ্য। এমনকি কোনো রাষ্ট্র ভৌগোলিকভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হলেও তার রাষ্ট্রত্ব অক্ষুণ্ণ থাকবে।

আইন ও রাজনীতির সংযোগ:
আদালত স্বীকার করেছে— জলবায়ু সংকট সমাধানে আইন গুরুত্বপূর্ণ হলেও একা যথেষ্ট নয়। বিজ্ঞান, অর্থনীতি, সামাজিক ইচ্ছাশক্তি এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে একত্রিত করতে হবে। বিচারপতিরা সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত মামলাবাজি যেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। বরং সরকার, আইনসভা, বিচার বিভাগ ও বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।

গুরুত্ব ও প্রভাব:
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মতামত ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক আইন ও জলবায়ু নীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। আদালতের ভাষায়, “জলবায়ু পরিবর্তন কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর নয়; এটি একটি আইনি বাধ্যবাধকতা, যা প্রতিটি রাষ্ট্রকে মেনে চলতে হবে।”

তাই বলা যায়, আইসিজের এই সিদ্ধান্ত জলবায়ু নীতি ও বৈশ্বিক পরিবেশ আন্দোলনের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

ইবাংলা বাএ

আইনিবাধ্যবাধকতা