দিনমজুরদের আহাজারি- আমরা গরিব, কিন্তু মানুষ, আমাদের বাঁচতে দিন, দ্রব্যমূল্য কমান

মতিন সাগর

দেশের দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষরা। রাজধানীর দক্ষিণখান থানার আশকোনা এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, শ্রমজীবী মানুষের জীবন এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

৩৮ বছর বয়সী দিনমজুর কাজী মোর্শেদ ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শ্রম দিয়ে দৈনিক ৬০০ টাকা আয় করেন। তার পরিবারে পাঁচজন সদস্য। তিনি বলেন,“৬০০ টাকা দিয়ে চাল, ডাল, তেল কিনলেই অর্ধেক টাকা শেষ হয়ে যায়। এখন আলু-পেঁপে ছাড়া কোনো সবজি ৮০ টাকার নিচে নেই।

মাছ-মাংস খাওয়া তো স্বপ্ন।”তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা তো মানুষ, রোবট না। প্রতিদিন কাজ করা যায় না। বিশ্রাম দরকার। কিন্তু একদিন কাজ না পেলে পরিবারের চুলায় আগুন জ্বলে না।”

শুধু খাদ্য ছাড়াও, জীবনযাত্রার সব খাতে খরচ বেড়ে গেছে। বাসাভাড়া, চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা- সব মিলিয়ে দিনমজুরদের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। মোর্শেদ জানান,বাচ্চাদের স্কুলে পড়াতে পারি না। অসুস্থ হলে ডাক্তার দেখানোও কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। ঔষধের দাম এত বেশি যে সাধ্যের বাইরে।

আরও পড়ুন…সন্তুষ্ট বিএনপি জাতিসংঘে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে: ফখরুল

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশে অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত লাখো শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রা ন্যূনতম পর্যায়েও নিরাপদ নয়। এ অবস্থা চলতে থাকলে সামাজিক অস্থিরতা বাড়তে পারে।

আশকোনার স্থানীয় স্কুলের এক শিক্ষক বলেন,- “দিনমজুররা অর্থনীতির মেরুদণ্ড। অথচ তাদের জীবনমান এত নিচে নেমে গেছে যে তারা এখন কেবল বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে। সরকারের জরুরি পদক্ষেপ ছাড়া এই সংকট কাটানো সম্ভব নয়।”

শ্রমিক সংগঠনগুলো বারবার ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের অভিযোগ, বর্তমান আয়ে শ্রমিকরা কেবল খাবারের খরচ মেটাতে পারে, অন্য কোনো চাহিদা পূরণ সম্ভব হয় না।

কাজী মোর্শেদসহ দেশের লাখো দিনমজুরের কণ্ঠে একই সুর- “আমরা গরিব, কিন্তু মানুষ। আমাদের বাঁচতে দিন। দ্রব্যমূল্য কমান।সারা দেশের দিনমজুরদের হৃদয়ের আর্তনাদ। দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে না ধরলে শ্রমজীবী মানুষের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে- এমন আশঙ্কাই করছেন সমাজ সচেতন মহল।

ইবাংলা বাএ

আমাদেরকমানদিনদ্রব্যমূল্যবাঁচতে