নিরাপত্তা রক্ষীর জীবনই অনিরাপদ, অভাব-অনটনে দিন কাটে আনোয়ারের

মতিন সাগর

রাজধানীর উত্তরা একটি অভিজাত ও ভিআইপি এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে বসবাস করেন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধি।

এই এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত রয়েছেন অসংখ্য নিরাপত্তারক্ষী। কিন্তু যারা অন্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন, তাদের নিজের জীবনই চরম অনিরাপদ ও অনিশ্চয়তায় ভরা।

এমনই একজন নিরাপত্তারক্ষী আনোয়ার হোসেন। বয়স প্রায় ৬০। গেটের সাথে চকিতে সময় কাটে ২৪ ঘণ্টা। ঠিকই পড়েছেন- প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করতে হয় তাকে। অথচ মাসিক বেতন মাত্র ১২ হাজার টাকা।

এই টাকাতেই চালাতে হয় নিজের খরচ, পরিবারে পাঠাতে হয় টাকা, আর পকেটে রাখতে হয় কিছুটাও। কিন্তু বাস্তবতা হলো- এত স্বল্প আয়ে চলছে না আনোয়ারের সংসার।

আনোয়ার বলেন, “আমি যাদের বাসার নিরাপত্তা দেই, তারা দিনে এক বারে যা খরচ করেন, আমি সারা মাসে সেই টাকা আয় করি না। খাবার, ভাড়া, পকেট খরচ মেটাতে গিয়ে বাড়িতে টাকা পাঠানোই কষ্ট হয়ে যায়।

স্ত্রী, দুই সন্তান নিয়ে আমার সংসার। অথচ আমি তাদের সঙ্গে থাকতে পারি না, আর ঠিকমতো টাকা পাঠাতেও পারি না।তিনি আরও বলেন, “২৪ ঘণ্টা ডিউটি করি, কোনো ছুটি নেই, পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগও নেই। মাঝে মাঝে মনে হয়, নিরাপত্তা দিতে দিতে নিজের জীবনের নিরাপত্তাই হারিয়ে ফেলেছি।”

রাজধানীতে প্রতিদিন নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। এক কেজি সবজি এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকা। চাল, ডাল, তেল- সবকিছুর দামই অসহনীয়। আনোয়ার জানান, “১২ হাজার টাকায় এখন কারও জীবন চলে না, আমাদের চলে তো কষ্টে। তাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে অনুরোধ- নিরাপত্তারক্ষীদের বেতন যেন কমপক্ষে ১৫ হাজার টাকা করা হয়।”

স্থানীয় সচেতনরা বলছেন, যারা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন, তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা না গেলে এটি একটি সামাজিক বৈষম্য তৈরি করে।

নিরাপত্তা রক্ষীদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবীরা যদি নিজেরাই অনিরাপদ জীবনযাপন করেন, তাহলে সমাজে নিরাপত্তার প্রশ্ন থেকেই যায়।এখন সময় এসেছে এই অবহেলিত শ্রেণির কথা ভাবার। তাদের সম্মান, ন্যায্য পারিশ্রমিক ও মানবিক জীবনের সুযোগ নিশ্চিত করলেই কেবল সমাজে সত্যিকারের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

ইবাংলা বাএ

জীবনইনিরাপত্তারক্ষীর