দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল ও তার স্ত্রী জাহানারা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে।
দুদকের অনুসন্ধান টিম—উপপরিচালক মানসী বিশ্বাসের নেতৃত্বে সহকারী পরিচালক পিয়াস পাল ও উপসহকারী পরিচালক রোমান উদ্দিনের সমন্বয়ে তদন্ত চালিয়ে এই মামলার অনুমোদন প্রদান করে।
মামলা নং ০১: আলী আজম মুকুল:
ভোলা-০২ আসনের সাবেক এমপি আলী আজম মুকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো—তিনি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ২ কোটি ৯২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩১ টাকার সম্পদ অর্জনপূর্বক ভোগদখলে রেখেছেন।
এছাড়া তিনি নিজের ও প্রতিষ্ঠানের নামে ৫টি ব্যাংকের ৩৭টি হিসাবে ২৭ কোটি ৫৯ লাখ ৬১ হাজার ৪৪৮ টাকা জমা এবং ২৬ কোটি ১৯ লাখ ৭৩ হাজার ১৩৩ টাকা উত্তোলন করে সর্বমোট ৫৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩৪ হাজার ৫৮১ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন।
আরও পড়ুন…আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিবের বার্তা
বৈধ উৎসে অর্জিত সম্পদ: ৫ কোটি ১৬ লাখ ২৭ হাজার ৪৭৭ টাকা
অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত সম্পদ: ৮ কোটি ৮ লাখ ৬২ হাজার ৮ টাকা
অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ: ২ কোটি ৯২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩১ টাকা
মামলা নং ০২: জাহানারা ইয়াসমিন:
ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ও আলী আজম মুকুলের স্ত্রী জাহানারা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধেও অনুরূপ মামলা করেছে দুদক।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, তিনি জ্ঞাত আয়ের বাইরে ৬ কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৭ টাকার সম্পদ ভোগদখলে রেখেছেন। একইসঙ্গে ৬টি ব্যাংকের ৩৯টি হিসাবে ৩৩ কোটি ৫৯ লাখ ৮৩ হাজার ২২২ টাকা জমা এবং ৩২ কোটি ৫১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫০ টাকা উত্তোলন করে মোট ৬৬ কোটি ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৮৭২ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন।
বৈধ উৎসে অর্জিত সম্পদ: ১ কোটি ৮৯ লাখ ৭ হাজার ৭৫ টাকা
অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত সম্পদ: ৯ কোটি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪২ টাকা
অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ: ৬ কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৭ টাকা
দুদক জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা অনুযায়ী।