গাজার দিকে যাচ্ছে ত্রাণবাহী ৩০ নৌযান ইসরায়েলের ধরপাকড়ের পরও

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ২ অক্টোবর ২০২৫

ইসরায়েলের হস্তক্ষেপ ও ধরপাকড় সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের গাজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ ত্রাণবাহী ৩০টি নৌযান। বর্তমানে বহরটি গাজা উপত্যকা থেকে ৮৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামের মাধ্যমে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে, গাজা থেকে ১২৯ কিলোমিটার দূরে ভূমধ্যসাগরে অবস্থানকালে গতকাল বুধবার (১ অক্টোবর) রাতে ফ্লোটিলাটিকে বাধা দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় অন্তত আটটি নৌযান থামিয়ে দেওয়া হয়।

নৌযানগুলো হলো দেইর ইয়াসিন, হিউগা, স্পেক্টার, আদারা, আলমা, সিরিয়াস, আরোরা ও গ্রান্ডি ব্লু। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী মোট ১৩টি নৌযান থামিয়ে দিয়েছে।

নৌযানগুলো থেকে বেশ কয়েকজন অধিকারকর্মীকে আটক করেছে ইসরায়েলি সেনারা। তাদের মধ্যে সুইডিশ জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও রয়েছেন। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয় হামাস-সুমুদ ফ্লোটিলার কয়েকটি নৌযান নিরাপদভাবে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেগুলোর আরোহীদের ইসরায়েলের একটি বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গ্রেটা ও তাঁর সহযোগীরা নিরাপদ ও সুস্থ রয়েছেন।

আরও পড়ুন…বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য,ব্রাহ্মণবাড়িয়া০ ৫ (নবীনগর) আসনের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী পুঁজা মন্ডব পরিদর্শন

‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ হলো সমুদ্রপথে গাজায় ত্রাণ পাঠানোর একটি আন্তর্জাতিক মানবিক উদ্যোগ। বহরটিতে বর্তমানে রয়েছে ৪০টির বেশি বেসামরিক নৌযান। এতে যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়ামসহ ৪৪টি দেশের প্রায় ৫০০ জন ব্যক্তি অংশ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচিত প্রতিনিধি, আইনজীবী, অধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিকরা।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় নির্বিচার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। প্রায় দুই বছরে এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া গাজা উপত্যকায় কঠোর অবরোধ জারি করে সেখানকার জনগণের জন্য তীব্র খাদ্য সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে অনাহার ও অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন গাজার সাধারণ মানুষ।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার প্রথম বহরটি ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করে। পরে ১৩ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তিউনিসিয়া ও ইতালির সিসিলি দ্বীপ থেকে আরও কিছু নৌযান বহরে যুক্ত হয়। এছাড়া গ্রিসের সাইরাস দ্বীপ থেকেও পরবর্তীতে কিছু নৌযান ত্রাণসহ বহরে যোগ দেয়। বর্তমানে বহরটিতে রয়েছে ৪০টির বেশি নৌযান।

ইসরায়েল শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, এই নৌবহরের সঙ্গে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের সম্পর্ক রয়েছে। তবে এই দাবির পক্ষে তারা এখনো কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। যদি যাত্রাপথে আর কোনো বাধার মুখে না পড়ে, তবে নৌবহরটির স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার সকালে গাজা উপকূলে পৌঁছানোর কথা ছিল।

ইবাংলা বাএ

ইসরায়েলেরধরপাকড়েরনৌযানপরও