সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী ও সাবেক এএসপি জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের তিন মামলা

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৬ অক্টোবর ২০২৫

দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী এবং ঢাকা-৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, তার স্ত্রী রেহানা চৌধুরী এবং সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের অনুমোদনক্রমে এসব মামলা দায়ের করা হয় কমিশনের উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ভিত্তিতে।

মামলা নং ০১: সাবের হোসেন চৌধুরী:

দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবের হোসেন চৌধুরী জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে ১২ কোটি ২৫ লাখ ৪৮ হাজার ১৬৯ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন।
এছাড়া, ১৯৮৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ২১টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৬০ কোটি ১৯ লাখ ৬৩ হাজার ২৪১ টাকা জমা এবং ৬৪ কোটি ৪১ লাখ ৯১ হাজার ১১ টাকা উত্তোলন করে মোট ১২৪ কোটি ৬১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫২ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন।

মামলাটি রুজু করা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায়।

মামলা নং ০২: রেহানা চৌধুরী ও সাবের হোসেন চৌধুরী (যৌথভাবে):

অভিযোগে বলা হয়, রেহানা চৌধুরী ও তার স্বামী সাবের হোসেন চৌধুরী যৌথভাবে ২৬ কোটি ৯৭ লাখ ১৫ হাজার ৩৮৯ টাকা জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন।

আরও পড়ুন…কেউ যেন ধর্মকে ব্যবহার না করি ক্ষমতা লাভের জন্য: সালাহউদ্দিন

তারা ১৯৯৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৩টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৭৫ কোটি ৭৩ লাখ ৪৩ হাজার ৩২০ টাকা জমা এবং ৭৫ কোটি ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ১৩০ টাকা উত্তোলন করেছেন — যা ১৫০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।

এই মামলাও রুজু করা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায়।

মামলা নং ০৩: জিয়াউর রহমান, সাবেক এএসপি:

দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মালেক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।অভিযোগে বলা হয়, জিয়াউর রহমান ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ৩০ লাখ ৬০ হাজার ২৪৯ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, তার ঘোষিত সম্পদের মূল্য ৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, কিন্তু প্রকৃত সম্পদের মূল্য ৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। দায়-দেনা বাদে তার নীট সম্পদ পাওয়া যায় ৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা, এবং পারিবারিক ব্যয়সহ মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, অর্থাৎ তিনি ৪ কোটি ২ লাখ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।

এছাড়া, তার নামে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ৬টি হিসাব থেকে ১০.৩৯ কোটি টাকা জমা ও ৯.৬৮ কোটি টাকা উত্তোলনসহ মোট ২০.০৭ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন পাওয়া গেছে।

এই অপরাধে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।দুদক জানায়, জিয়াউর রহমানের স্ত্রী জেসমিন নাহার সঞ্চিতার বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদ ও মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত আরেকটি অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে।

ইবাংলা বাএ

কমিশনেরতিনদমনদুর্নীতিমামলা