দেশের তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, ঘুষ দাবিসহ বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আজ তিনটি পৃথক এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে।
অভিযানে লক্ষ্মীপুর, গোপালগঞ্জ ও ঢাকায় সরকারি অর্থের অপচয়, ঘুষ দাবির অভিযোগ এবং কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে গাফিলতির বিষয়গুলো যাচাই করা হয়।
অভিযান ০১: কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, লক্ষ্মীপুর:
কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি এমএসআর সামগ্রী ক্রয়ের কার্যাদেশ প্রদানে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ঘুষ দাবির অভিযোগে দুদকের একটি দল অভিযান চালায়।অভিযান পরিচালনা করে দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চাঁদপুর।
দুদক জানায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে উক্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ, লিলেন, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি, গজ-ব্যান্ডেজ-কটন, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট ও মেডিক্যাল আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য মোট ৬টি গ্রুপে Open Tendering Method (OTM) পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়।
অভিযানকালে টিম টেন্ডার সংক্রান্ত সব রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে সম্ভাব্য অনিয়ম সম্পর্কেও খোঁজ নেয়।সংগৃহীত তথ্য ও প্রমাণ যাচাই শেষে কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানায় দুদক টিম।
আরও পড়ুন…ভয়াবহ আগুন চট্টগ্রাম ইপিজেডে
অভিযান ০২: ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, গোপালগঞ্জ:
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে কর্মীদের প্রশিক্ষণের অর্থ আত্মসাৎ, অফিসের গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার এবং অবৈধভাবে সরকারি বাসা ব্যবহারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদকের আরেকটি দল অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানটি পরিচালনা করে দুদক, জেলা কার্যালয়, গোপালগঞ্জ।দলটি সরকারি বাসা ব্যবহার, প্রশিক্ষণ বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থের অপব্যবহার এবং অফিসের গাড়ি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহারের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে।অভিযোগের সত্যতা যাচাই শেষে কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
অভিযান ০৩: সরকারি কলেজে বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ প্রকল্প (FOSEP):
সরকারি কলেজে বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ প্রকল্প (FOSEP) বাস্তবায়নে অভিযোগিত অনিয়ম ও সরকারি অর্থের অপচয়ের ঘটনায় দুদকের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানটি পরিচালিত হয় দুদক, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা থেকে।অভিযানকালে টিম প্রথমে প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় পরিদর্শন করে অভিযোগসংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে।
পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়।অভিযোগের প্রাসঙ্গিক অন্যান্য নথি বিশ্লেষণ শেষে দুদক কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।