সাহসী অঙ্গীকার, নতুন কৌশল এবং মানুষ ও গ্রহের জন্য ঐক্যবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গির মধ্য দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে শেষ হলো আইইউসিএন বিশ্ব সংরক্ষণ কংগ্রেস ২০২৫। বিশ্বের ১৮৯টি দেশ থেকে আগত ১০ হাজারেরও বেশি প্রতিনিধি প্রকৃতিকে রক্ষায় একযোগে কাজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
কংগ্রেসে উপস্থিত সরকার, নাগরিক সমাজ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আদিবাসী সম্প্রদায়, গবেষক ও যুব প্রতিনিধিরা সতর্ক করে বলেন—জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ এবং বাস্তুতন্ত্রের পতন মানব অস্তিত্বের জন্য এক মারাত্মক হুমকি। তারা বিশ্বের দেশগুলোকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যেন মানুষ ও প্রকৃতি একসাথে টিকে থাকতে পারে।
কংগ্রেসে বলা হয়, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs), প্যারিস চুক্তি ও বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য কাঠামোর ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এখন সময় খুবই সীমিত। তাই অবিলম্বে সাহসী ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. আমনা বিনতে আবদুল্লাহ আল দাহাক বলেন, “আমরা প্রকৃতি ও মানুষের জন্য বাস্তব পদক্ষেপের সেতুবন্ধন তৈরি করেছি।
এই কংগ্রেসের উত্তরাধিকার হবে আমাদের সম্মিলিত কর্মকাণ্ড—যা প্রকৃতি-ইতিবাচক ভবিষ্যত গঠনের দিকে নিয়ে যাবে।আইইউসিএন সভাপতি রাজান আল মুবারক বলেন, এই কংগ্রেসের বার্তা স্পষ্ট—পরিবেশ রক্ষা কোনো খরচ নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যতের বিনিয়োগ।
আবুধাবির পরিবেশ সংস্থার মহাসচিব ড. শাইখা সালেম আল ধাহেরি জানান, এই কংগ্রেসে নতুন সাতটি সুরক্ষিত এলাকা ঘোষণার মাধ্যমে আমিরাত তার সংরক্ষিত এলাকা ১৫% থেকে ২০%-এ উন্নীত করেছে, যা বৈশ্বিক সংরক্ষণে এক নতুন মাইলফলক।
আরও পড়ুন…গাজায় ফিরতে শুরু করেছে ফিলিস্তিনি বন্দিরা অনিশ্চিয়তা নিয়ে
সমাপনী ভাষণে আইইউসিএন মহাপরিচালক ড. গ্রেথেল আগুইলার বলেন, “আবুধাবি থেকে আমরা ঐক্যবদ্ধ বার্তা পাঠাচ্ছি—আমরা স্রোতের দিক পরিবর্তনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মানুষ ও প্রকৃতির সহাবস্থান নিশ্চিত করাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য।
কংগ্রেসে বিশ্বব্যাপী পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার গৃহীত হয়—
১️ প্রকৃতিকে মানবকল্যাণের ভিত্তি হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করা,
২️ বহুপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধি,
৩️ সমাজের সর্বস্তরের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা,
৪️ বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের ব্যবহার বাড়ানো,
৫️ এবং সংরক্ষণের জন্য সম্পদ বৃদ্ধি ও সমন্বয় করা।
এছাড়াও কংগ্রেসে নতুন উদ্যোগ হিসেবে চালু করা হয় ‘NatureX Abu Dhabi’, জলবায়ু সহনশীলতা কর্মসূচি, জীববৈচিত্র্য মূল্যায়নের জন্য আরবি সংস্করণের গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড, এবং ‘Tech4Nature’ পুরস্কারসহ বিভিন্ন প্রকল্প।সম্মেলনের শেষে ঘোষণা করা হয়—পরবর্তী আইইউসিএন বিশ্ব সুরক্ষিত এলাকা কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে পানামায়।
বিশ্ব সংরক্ষণ কংগ্রেস ২০২৫ এ গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো প্রকৃতি ও মানবতার জন্য নতুন যুগের সূচনা করবে—একটি পৃথিবীর, যেখানে উন্নয়ন ও সংরক্ষণ একসাথে এগিয়ে যাবে।