দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আজ দেশের তিনটি জেলায় পৃথক এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়া, সেবা প্রদান ও খতিয়ান এন্ট্রি কার্যক্রমে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসঙ্গতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অভিযান-০১: গণপূর্ত অধিদপ্তরে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম:
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে বিভিন্ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও প্রাক্কলন ফাঁসের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয় থেকে অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে এনফোর্সমেন্ট টিম দেখতে পায়, ঢাকা মেট্রো জোনের তিনটি প্রকল্পের দরদাতারা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় প্রাক্কলনের কাছাকাছি দরপত্র দাখিল করেছেন।
আরও পড়ুন…কেয়ারটেকারের আদলে চায় বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারকে
যেহেতু এসব তথ্য অত্যন্ত গোপনীয়, তাই এতে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশের আশঙ্কা করছে দুদক।বিষয়টি পর্যালোচনার পর কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযান-০২: পটুয়াখালীতে স্বাস্থ্যসেবায় অনিয়ম ও হয়রানি:
পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা প্রদানে হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে অভিযান পরিচালিত হয়।অভিযানকালে টিম সরেজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শন করে এবং রোগীদের কাছ থেকে সেবার মান বিষয়ে অভিযোগ গ্রহণ করে।
সেবার অসঙ্গতি নিরসনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয় দুদক।সংগৃহীত তথ্য ও নথি যাচাই শেষে কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
অভিযান-০৩: দিনাজপুরে খতিয়ান এন্ট্রি দুর্নীতি ও খাস জমি বেহাতের অভিযোগ:
দিনাজপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের প্রধান সহকারীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে খতিয়ান এন্ট্রি বাবদ অতিরিক্ত টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জেলা কার্যালয় থেকে এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে বিকাশ লেনদেনের অস্বাভাবিকতা, বিল ভাউচারের অসঙ্গতি এবং মামলা শুনানির গরমিল ধরা পড়ে।এছাড়া, একই টিম বিরামপুর উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসেও অভিযান চালিয়ে ১৮ একর সরকারি খাস জমি টাকার বিনিময়ে ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড করার প্রাথমিক প্রমাণ পায়। সেখানে দালাল চক্রের সক্রিয়তা এবং কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার ইঙ্গিতও পাওয়া যায়।