ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে বিএনপি নেতা মফিজুর রহমান মুকুল গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকে জনমনে সর্বত্র ভীতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে পুলিশ গ্রেফতারে তৎপর রয়েছে, মুলত ২ টি বিষয় নিয়ে পুলিশ এগুচ্ছে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ব্যাপারগুলো।
তবে এখনো অপরাধীরা শনাক্ত না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। তবে পুলিশ বলছে, একাধিক পুলিশের টিম এ নিয়ে কাজ করছে, খুব শিগগিরই অপরাধীরা ধরা পড়বে।
এদিকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ বিএনপি নেতা মুকুলের শরীরে শনিবার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচার করে ফুসফুস থেকে একটি গুলি বের করা হয়েছে।
এভারকেয়ার হাসপাতালে অবস্থানরত জেলা বিএনপির সদস্য হযরত আলী গত রাতে দেড়টায় বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘শনিবার দুপুর ২টা থেকে পৌনে সাতটা পর্যন্ত প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে মুকুল ভাইয়ের শরীরে সফল অস্ত্রোপচার করে ফুসফুসে থাকা গুলিটি বের করা হয়েছে। তবে তার শরীরে থাকা বাকী দুটো গুলি কখন কিভাবে বের করা হবে, সেটি নিয়ে আজ রবিবার ডাক্তারদের বোর্ড মিটিং থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে শনিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গুলিবিদ্ধ বিএনপি নেতা মুকুলের স্ত্রী এভারকেয়ার হাসপাতালে অবস্থানরত বিএনপির নেতৃবৃন্দকে বলেন, ‘কিছুদিন আগে মুকুলের মোবাইল নম্বরে কেউ একজন কল করে তাকে (মুকুল) হুমকি দিয়ে বলেছিল, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী তাপসের গ্রুপ না ছাড়লে, মুকুলসহ তাপস গ্রুপের একাধিক নেতাকেই এর জন্য মাশুল গুণতে হবে। ওই হুমকির পরই মুকুল শুক্রবার সন্ধ্যায় সন্ত্রাসী হামলায় গুলিবিদ্ধ হতে পারেন।
মুকুলের স্ত্রীর এই বক্তব্য শনিবার দুপুরের পর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।এ বিষয়ে নবীনগর থানার ওসি শাহীনূর ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার পর এখনো কেউ মামলা করেনি। তবে পুলিশের একাধিক টিম বিএনপি নেতা মুকুলের স্ত্রীর বক্তব্যসহ সবকিছুই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। আমরা ইতোমধ্যে বেশ কিছু ক্লুও পেয়েছি।
আরও পড়ুন…খুলনা–সাতক্ষীরা সড়ক ও রানীশংকৈল হাসপাতালের অনিয়মে দুদকের পৃথক অভিযান
আশা করছি, সহসাই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে বাসার সামনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন নবীনগর উপজেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক ও বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান মুকুল (৫৫) উপজেলা সদরের আদালত সংলগ্ন পদ্মপাড়ায় তিনি আকস্মিভাবে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে গুলিবিদ্ধ হন। সন্ত্রাসীদের তিনটি গুলি তার পিঠে ও কোমরে ঢুকে।
ঘটনার পরপরই তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে ঢাকায় পাঠানো হয়।সেখানে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী সমর্থকদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া -৫ (নবীনগর) আসলে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরাউপস্থিত থেকে এ ঘটনায় আরও নিন্দা জানান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তকদির হোসেন মোহাম্মদ জসিম, জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক এডভোকেট এম এ মান্নান, জেলা বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী সদস্য ও উপদেষ্টা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ভুঁইয়া, শিশির,কৃষক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কে এম মামুনুর রশিদ, কেন্দ্রীয় জিয়া পরিষদের নেতা আলী আজ্জম জালাল সহ আরো অনেকে।
এই নেতাদের দাবি, দলে রাজনৈতিক কোনো দ্বন্দ্ব নেই। মুকুলের সঙ্গে কারও কোনো দ্বন্দ্ব ছিল বলেও শোনেননি। হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনায় দাবি জানান তারা।