বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে ভারতসহ পশ্চিমা কয়েকটি দেশের কিছু রাজনীতিবিদ ও সংগঠন দীর্ঘমেয়াদি একটি ‘মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি অতি গোপনীয় কার্যবিবরণীতে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
কার্যবিবরণী অনুযায়ী, ভারতের পক্ষ থেকে ‘গ্রেটার ত্রিপুরা ল্যান্ড’ গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলা অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, পশ্চিমা কিছু এনজিও পূর্ব তিমুরের মতো একটি পৃথক রাষ্ট্র গঠনের তৎপরতা চালাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের ত্রিপুরার রাজপরিবারের প্রধান প্রদ্যোত বিক্রম মানিক্য দেব বর্মা এই পরিকল্পনার অন্যতম উদ্যোক্তা। তিনি দাবি করেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম একসময় বাংলাদেশের অংশ ছিল না এবং এটি ঐতিহাসিকভাবে ত্রিপুরার অন্তর্ভুক্ত অঞ্চল।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক, বাম রাজনৈতিক সংগঠন এবং পশ্চিমা এনজিও—সবাই মিলে এই অঞ্চলে পূর্ব তিমুর বা দক্ষিণ সুদান-এর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এছাড়া, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিন পার্বত্য জেলায় পশ্চিমা দেশের ১৩ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সফরকেও এই কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, ভারতের মিজোরাম ও মিয়ানমার থেকে অস্ত্র পাচার হচ্ছে পার্বত্য সন্ত্রাসীদের কাছে। আর্থিক সংকটে পড়লে ভারতীয় কিছু গোষ্ঠীও এসব অস্ত্র বিক্রি করছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চাকমা সার্কেল চিফ দেবাশীষ রায় ‘মারমা কিশোরী ধর্ষণ’ ইস্যুতে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে উসকানিমূলক ভূমিকা নিয়েছেন। পরে সরকারি মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনে এ ঘটনার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন…ডা. এম ইয়াসিন আলী স্বাস্থ্য খাতে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন IPA অ্যাওয়ার্ড লাভ
কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন বিদেশি উপজাতীয় সংগঠন ও এনজিও যেমন অল ইন্ডিয়া চাকমা স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ও মিয়ানমার রাখাইন ছাত্র সংঘ—তারা বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও সরকারের বিরুদ্ধে ভুয়া প্রচারণা চালাচ্ছে।দিল্লিভিত্তিক ইউপিডিএফ (প্রসীত) সমর্থক সুহাস চাকমা জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’র অভিযোগ তুলেছেন।
এছাড়া, প্রতিবেদনে বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ, মানবাধিকারকর্মী ও শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যারা বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সাবেক সচিব শফিউল আজিম এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা সতর্ক করে বলেছেন,পার্বত্যাঞ্চল নিয়ে ষড়যন্ত্র নতুন নয়। এখন এটি আরও জোরদার হয়েছে। জাতীয় ঐক্য ছাড়া ভবিষ্যতে বড় বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।”
অবশেষে, মন্ত্রণালয় নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার জন্য।
সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ