এবার প্রকাশ্যে মোড় নিলো বিরোধ: ব্রাহ্মণবাড়িয়া -৫ ধানের শীষের প্রার্থী বদলাতে একমঞ্চে ৭ হেভিওয়েট প্রার্থী

রুবেল ভূইয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া- ৫ ধানের শীষের প্রার্থী বদলাতে একমঞ্চে ৭ হেভিওয়েট মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী সকল। তারই ধারাবাহিকতায় তাদের গড়ে তোলা সকল নেতা- কর্মীরাও সমর্থন জানিয়েছেন।

উল্লেখ, এ আসন থেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট এম. এ মান্নানকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা পর থেকেই বাকি মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীরা এর বিরোধিতা করে আসছিলো তার অযোগ্যতার কারণে।

এই প্রভাবশালী নেতারা মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে নজির বিহীন মিছিল মিটিং সভা- সমাবেশ করে যাচ্ছেই। এবং তা অব্যাহতও রেখেছে। তারই ধারাবাহিকতায়
বুধবার বিকেলে নবীনগর হাইস্কুল মাঠে ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় দ্বিধা বিভক্তি বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত ৭ প্রার্থী একই মঞ্চে উঠেছেন, তাদের দাবী এ সাতজনের মধ্য থেকে যেকোন একজনকে মনোনয়ন দিলেও তারা মেনে নিবেন । তবে এ আসনে কোন অযোগ্য, নেতা- কর্মীদের পাশে ছিলো না এমন প্রার্থীকে আমরা চাই না।

প্রায় চারভাগে বিভক্ত বিএনপির একটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি মনোনিত এম, এ মান্নান। অপর গ্রুপে রয়েছেন মনোনয়ন বঞ্চিত জেলা বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক নাজমূল হোসেন তাপস।

তবে মনোনয়ন পেতে তিনি আশাবাদী হয়ে লড়ে যাচ্ছেন । উল্লেখ, তার বাবা প্রয়াত কাজী মোঃ আনোয়ার হোসেন ৪ বারের সাংসদ সদস্য। তার রয়েছে এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা। তাপস এর আগেও এ আসনে নির্বাচন করে যথেস্ট পরিচিতি লাভ করেছেন।

ইতোপূর্বে ১৯৯৬ সাল ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচন করা প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তকদির হোসেন মোহাম্মদ জসিম জোরে শোরে বক্তব্যে বলেন, এ আসনে প্রকৃত নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়নি।

তিনি আরো বলেন, ধানের শীষ আমাদের হৃদয়ে লালন করা প্রতীক, আমরা ধানের শীষ কে ভালোবাসী। সুদীর্ঘ সময় ধরে দলের কান্ডারী হয়ে এলাকায় কাজ করে আসছি। যোগ্য প্রার্থীকে রিভিউ করলে এ সিট টি তারেক রহমান সাহেবকে উপহার দিতে পারবো, তবে যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তিনি একেবারেই যোগ্য নয়, সুখে -দু:খে নেতা-কর্মীদের পাশেও ছিলেন না তেমন।

শুনেছি আগামী ২২ তারিখ ধানের শীষ প্রতীক ব্যাবহার করে সভা করবে কে বা কারা, আমরা তা প্রতিহত করতে চাই ”। ধানের শীষ প্রতীক সবার জন্য মানানসই নয়।

অন্যটিতে রয়েছেন ত্যাগী নেতাদের একজন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন ভূঁইয়া শিশির, তিনিও প্রায় একই মন্তব্য করেছেন।

কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ সাধারণ সম্পাদক কেএম মামুন অর রশিদ বলেন, তিনি ২১ টি ইউনিয়নে চষে বেড়িয়েছেন, ব্যাপক জনসংযোগ করেন,অপর কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইদুল হক সাইদ তিনিও।

এই চার নেতা সহ মঞ্চে যে সাত নেতা রয়েছেন তারা হলেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমূল করিম, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক এড.রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু।

অপর দিকে মনোনয়ন প্রত্যাশী অপর এক রত্নগর্ভা পরিবারের, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা মেজর জেনারেল কামরুজ্জামান (অব.) তিনিও বিএনপির প্রার্থী। তিনি বলেন, আমি কোনও বিভাজন বা বিচ্যুতির পক্ষে নই, বিএনপি হাইকমান্ড এটার সম্পর্কে জানে।

দল যাকেই যোগ্য মনে করে চায় আমিও তাকেই চাই, তবে এ আসনে আমিও আশাবাদী হিসেবে রয়েছি কারণ বিএনপির ঘরনার হওয়ার কারণে চাকরি জীবনে সেনাবাহিনীর প্রধান হওয়ার যোগ্যতা থাকা সত্বেও সে সুযোগ হারিয়েছি। যদিও তিনি ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন না ।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমূল করিমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান মঞ্জু, সাবেক মেয়র মাইনুদ্দিন মাইনু, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু সাঈদ, জেলা বিএনপির সদস্য হযরত আলীসহ ২১ টি বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে আগত নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো।

বক্তারা বলেন, অচিরেই পরিবর্তন করে আমাদের যোগ্য ও পছন্দের প্রার্থী কে চুড়ান্ত প্রার্থী ঘোষনা করা হোক। আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় আাছি, আমরা চাই দলীয় হাইকমান্ড মনোনয়ন পরিবর্তন করে তৃনমুল নেতাকর্মীদের মনের ইচ্ছা পূরণ করে প্রার্থীতা চুড়ান্ত ঘোষণা করবেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নেতা-কর্মী বলেন, আব্দুল মান্নান সরকার পরিবর্তনের পরপরই মামলা বাণিজ্য, অবৈধ বালু সিন্ডিকেট পরিচালনা, দলে বিভেদ সৃষ্টি ও যারা সতেরো বছর দল করার কারণে মামলা হামলা ও জেল জুলুমের শিকার হয়েছে তাদের দূরে ঠেলে দেন এবং নব্য বিএনপির লোকজন দিয়ে দল পরিচালনা করছেন।

ফলে দূটি ধারা আজ মুখোমুখি অবস্থায় দাড়িয়েছে। অচিরেই এ আসনে প্রার্থী পরিবর্তন না করা হলে এবং যোগ্য নেতৃত্বে দেবার মতো ব্যাক্তিকে না দিলে আসনটি নানাবিধ কারণে হাত ছাড়াও হয়ে যেতে পারে।

এদিকে আগামী ২২ তারিখ শনিবার একই জায়গায় বর্তমান প্রার্থী এড. এম.এ মান্নান এক জনসভার ডাক দেন। উল্লেখ্য সম্প্রতি বিএনপি নেতা মফিজুর রহমান মুকুল এর উপর গুলি বিদ্ধের ঘটনা, নবীনগরের বিভিন্ন জায়গা থেকে অস্ত্র উদ্ধার ও শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মাঝে এমন পাল্টাপাল্টি জনসভার ফলে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে বিভাজন তৈরি হয়ে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো সময় এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যা না।

ইবাংলা বাএ

এবারনিলোপ্রকাশ্যেবিরোধমোড়