গণহত্যার অপরাধের শিকারদের স্মরণ ও মর্যাদা এবং আন্তর্জাতিক দিবসে জাতিসংঘ মহাসচিবের বার্তা

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

গণহত্যার অপরাধের শিকারদের স্মরণ ও মর্যাদা এবং এই জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধের আন্তর্জাতিক দিবস পালিত হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধগুলোর একটি—গণহত্যা—রোধে বৈশ্বিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন এটি।

১৯৪৮ সালে ‘গণহত্যা অপরাধের প্রতিরোধ ও শাস্তি সংক্রান্ত কনভেনশন’ গৃহীত হওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্ব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল: কোনও জাতীয়তা, জাতিগততা, বর্ণ বা ধর্মের কারণে কোনও গোষ্ঠী কখনও নির্মূলের ঝুঁকিতে পড়বে না। কিন্তু ‘আর কখনও নয়’ প্রতিশ্রুতি বহু এলাকায় হুমকির মুখে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক নেতারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিংসাত্মক সংঘাত, ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ভুল তথ্য, জবাবদিহিতার অভাব—এসব মিলে গণহত্যার ঝুঁকি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ভুল তথ্য ও উসকানিমূলক বক্তব্যকে আরও দ্রুত ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

জাতিসংঘের বার্তায় বলা হয়েছে—গণহত্যা প্রতিরোধে প্রথম দায়িত্ব রাষ্ট্রের। যেসব দেশ এখনো কনভেনশনে সামিল হয়নি, তাদের প্রতি এতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সব দেশকে চুক্তি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন ও অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন…২-৪টা আসনের জন্য নয়, জোট হবে ন্যায্যতার বিচারে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে: নুরুল হক নুর

তবে প্রতিরোধ কেবল সরকারের দায়িত্বে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি যৌথ দায়িত্ব। এজন্য নতুন প্রজন্মকে ঘৃণাত্মক বক্তব্য, বৈষম্য ও ভুল তথ্যের ঝুঁকি সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া জরুরি। প্রাথমিক সতর্কতা চিহ্নগুলো শনাক্ত করা এবং দ্রুত সতর্কতা প্রদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মানবাধিকার সংগঠন, সম্প্রদায়ের নেতা, মিডিয়া এবং বিশেষত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর নৈতিক দায়িত্ব আরোপ করে বলা হয়েছে—গণহত্যা প্রতিরোধে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধই পারে শিকার ও বেঁচে যাওয়া মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং মানবতার মৌলিক মূল্যবোধ—নিরাপত্তা, মর্যাদা ও শান্তিতে বসবাসের অধিকার—রক্ষা করতে।

ইবাংলা বাএ

জাতিসংঘবার্তামহাসচিবের