টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট অনুমোদন

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গুলশানের একটি ফ্ল্যাট অবৈধভাবে গ্রহণ ও এ-সংক্রান্ত ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও দুই সাবেক রাজউক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে। মামলা নম্বর–১৭, তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০২৫, দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ থেকে এ মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার এজাহারকারী ও তদন্ত কর্মকর্তা:

এজাহারকারী কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছেন দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।
তদন্ত করেছেন সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর।

এজাহারভুক্ত আসামি:

১) টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক,
২) শাহ মো. খসরুজ্জামান, সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা, রাজউক;
৩) সরদার মোশাররফ হোসেন, সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা-১, রাজউক।

অভিযোগের সারসংক্ষেপ:

দুদকের তদন্তে জানা যায়, আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইষ্টার্ণ হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে কোনো টাকা পরিশোধ না করেই গুলশান–২ এর
ফ্ল্যাট নং বি/২০১, বাড়ি নং ১১এ/১১বি, রোড ৭১
অবৈধ সুবিধা হিসেবে গ্রহণ ও দখল করেন।

দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্ল্যাটটি ইষ্টার্ণ হাউজিংয়ের অনুকূলে হস্তান্তরযোগ্য ছিল না। তা সত্ত্বেও আসামি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক তার নিকট আত্মীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতায় থাকার প্রভাব ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট রাজউক কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করেন। পরে ফ্ল্যাটটির আমমোক্তার অনুমোদন ও বিক্রয়ের অনুমোদন করিয়ে অবৈধভাবে সুবিধা নেন বলে দুদকের অভিযোগ।

আরও পড়ুন…মোহাম্মদপুরে মা–মেয়ে হত্যাকাণ্ড: ডিএমপি জানালো আসল কারণ

চার্জশিট অনুমোদন:

তদন্ত শেষে দুদক নিম্নলিখিত আইনে চার্জশিট অনুমোদন দেয়—

দণ্ডবিধির ১৬১/১৬৫(ক)/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারায়

দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায়

চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক এবং সরদার মোশাররফ হোসেন এর বিরুদ্ধে।

তবে এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি শাহ খসরুজ্জামান হাইকোর্টে দায়ের করা মিস কেস (নং ৪৬৪৩৬/২০২৫) এখনো চলমান থাকায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল স্থগিত রাখা হয়েছে। হাইকোর্ট তাকে তিন মাসের স্থগিতাদেশ দেন। কমিশনের আপিল চেম্বার জজ আদালতে নো অর্ডার দেওয়া হয়। এই মামলাটি নিষ্পত্তির পর তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দুদকের হাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ:

দুদকের নথিতে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রমাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—

১. ইষ্টার্ণ হাউজিং লিমিটেডের চিঠি, যেখানে বলা আছে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক বিনা মূল্যে ফ্ল্যাটটি নিয়েছেন।
২. রাজউকের নথিতে ফ্ল্যাট মালিকদের তালিকার ৫ নং ক্রমিকে তার নাম উল্লেখ।
৩. ১৯ মে ২০০১ থেকে তিনি ফ্ল্যাটটির দখলে আছেন—এমন তথ্য সম্বলিত ইষ্টার্ণ হাউজিং-এর পত্র।
৪. আয়কর রিটার্নে অসঙ্গতি—২০০৬–২০১৫ পর্যন্ত “অগ্রীম টাকা ৫ লাখ” দেখানো হলেও ফ্ল্যাটের মালিকানা গোপন রাখা।
৫. ২০১৫ সালে ফ্ল্যাটটি বোন আজমিনা সিদ্দিককে ‘হেবা’ করার যে দলিল দেখানো হয়েছে, তা তদন্তে জাল প্রমাণিত।
৬. ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পৌরকর রেকর্ডে এখনো ফ্ল্যাটটি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের নামে নামজারীকৃত এবং তিনি হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করেছেন।

ইবাংলা বাএ

অনুমোদনচার্জশিটদুদকের