জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়। শনিবার প্রতিস্ঠানটির উদ্যোগে এ আয়োজনটি ছিলো চোখে পড়ার মতো।
হাসপাতালের চিকিৎসকবৃন্দ বিভিন্ন বিভাগের যারা সদ্য পদোন্নতি পেয়েছেন তাদের জন্য সংবর্ধনার এই ব্যতিক্রমী এই আয়োজনটি ছিল বেশ স্বতঃস্ফূর্ত। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন পরিচালক এবং বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা এম এ হাদী ফকির।
জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের পরিচালক ও অধ্যাপক ডা. জানে আলম মৃধার সভাপতিত্বে-উক্ত আয়োজনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডা. মোঃ ছায়েদুল হক,অধ্যাপক শাহিনুর রহমান,অধ্যাপক সাজেদ আব্দুল খালেক অধ্যাপক মিজানুর রহমান মিঞা সহ আরো অনেকে।
বক্তারা বলেন, উক্ত হাসপাতালটি অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী ফকিরের উদ্যোগে বর্তমান ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল প্রকল্পটি একনেকে পাস করা হয়েছিল এবং তখনকার প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন।
উক্ত হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাসীন হলে হাসপাতাল প্রকল্পে জড়িত সকল চিকিৎসকবৃন্দকে একযুগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বদলি করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে কোন ধরনের পদোন্নতি ছাড়াই সবাই অবসরে যান।
আরও পড়ুন…সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ
এই দীর্ঘ সময়ে কখনো উক্ত হাসপাতালে জনবল বিশেষ করে সহযোগী অধ্যাপক এবং অধ্যাপক পদ পূরণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে উক্ত হাসপাতালে চিকিৎসা এবং শিক্ষা কার্যক্রম কখনো ইপ্সিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নিয়মিত এবং সুপারনিউমারি পদোন্নতি (প্রোমার্জনাসহ) দিয়ে সংকটের কিছুটা সমাধান করার চেষ্টা করেছেন। এজন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশীদ এবং সেক্রেটারি জেনারেল সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ জহিরুল ইসলাম শাকিল কে অশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়।
উক্ত হাসপাতালে ৫৬ছন চিকিৎসক কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়েছেন। তারপরেও দুই তৃতীয়াংশ অধ্যাপকের পদ পূরণ করা সম্ভব হয়নি। বেশ কিছু সহযোগী অধ্যাপক এর পদও শূন্য।এত বড় একটি বিশাল হাসপাতাল সারা বাংলাদেশ নিয়ে যার কর্মকাণ্ড বিগত ১৬ বছরে হাসপাতালটি প্রায় পঙ্গু অবস্থায় পৌঁছেছে।
জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান হাসপাতালের একটি অন্যতম কর্মকান্ড ছিল ন্যাশনাল আই কেয়ার প্রোগ্রাম। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের পরিচালক পদাধিকার বলে উক্ত প্রোগ্রামের লাইন ডাইরেক্টর।
এই ন্যাশনাল আই কেয়ার পলিসিটি ২০০৫ সালে তৎকালীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি স্যারের তত্ত্বাবধানে গৃহীত হয়েছিল। এটি ছিল চক্ষু চিকিৎসায় একটি অনন্য প্রোগ্রাম। এই প্রোগ্রামটি বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।
আমাদের প্রত্যাশা নতুন পদোন্নতিপ্রাপ্ত চক্ষু চিকিৎসকবৃন্দ জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনবে এবং ন্যাশনাল আই কেয়ার প্রোগ্রামটি আবারওন সচল করার প্রয়াস নেবে।