রাজধানীর কারওয়ানবাজার ও ফার্মগেট এলাকায় অবস্থিত দেশের শীর্ষ দুটি গণমাধ্যম—দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার–এর কার্যালয়ে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক সংবাদকর্মী ও কর্মচারী আটকা পড়েন বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন…আর নেই ওসমান হাদি
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে প্রথমে কারওয়ানবাজারে প্রথম আলোর কার্যালয়ের সামনে একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি জড়ো হয়। কিছুক্ষণ পর তারা অফিস প্রাঙ্গণে হামলা ও ভাঙচুর শুরু করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হামলাকারীরা প্রথম আলোর সামনের সড়কে আগুন জ্বালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
এরপর রাত গভীর হলে ফার্মগেট এলাকায় অবস্থিত ডেইলি স্টার ভবনের দিকেও হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে ভবনের ভেতরে অগ্নিসংযোগ করা হলে পুরো ভবন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। আগুন লাগার পর ভবনের ভেতরে থাকা অনেক সংবাদকর্মী বের হতে না পেরে ছাদে আশ্রয় নেন।
জানা গেছে, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পরপরই একদল লোক এই হামলায় জড়িত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক লাইভ ভিডিওতে লাঠিসোটা হাতে হামলাকারীদের ভাঙচুর চালাতে দেখা গেছে।
হামলার সময় ডেইলি স্টারের সাংবাদিক আহমেদ দিপ্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুক লাইভে বলেন, “এমন লেট নাইট ডিউটি যেন কারও জীবনে না আসে। আমরা ছাদে আটকা পড়েছি। ভবনে আগুন দেওয়া হয়েছে, দেখা নাও হতে পারে।” তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে ডেইলি স্টারের সাংবাদিক জাইমা ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে ভয়াবহ পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে লেখেন, “আমি আর শ্বাস নিতে পারছি না। চারদিকে খুব বেশি ধোঁয়া। আমি ভেতরে আটকে আছি। তোমরা আমাকে মেরে ফেলছ।” তার এই পোস্টও জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
ডেইলি স্টারের সাংবাদিক রাকিবুল হক ও রাকসান্দা রহমান জানান, আগুন লাগার পর ভবনের ভেতরে থাকা অনেকেই বের হতে না পেরে ছাদে উঠে যান। ধোঁয়া ও আতঙ্কের মধ্যে দীর্ঘ সময় তারা সেখানে অবস্থান করতে বাধ্য হন।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। তবে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনায় দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সাংবাদিক মহল অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এবং সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইবাংলা.প্রেস/ বাএ