নতুন বছরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বিশ্ববাসীর উদ্দেশে এক শক্তিশালী ও উদ্বেগপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। তাঁর ভাষায়, বিশ্ব আজ এক গভীর সন্ধিক্ষণে—যেখানে অনিশ্চয়তা, সংঘাত ও বিভাজন মানবতার ভবিষ্যৎকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
মহাসচিবের নববর্ষের বার্তায় উঠে এসেছে সমসাময়িক বিশ্বের কঠিন বাস্তবতা। সহিংসতা, জলবায়ু বিপর্যয়, আন্তর্জাতিক আইনের নিয়মতান্ত্রিক লঙ্ঘন এবং ক্রমবর্ধমান বৈষম্য মানব পরিবার হিসেবে আমাদের ঐক্যকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি স্পষ্ট করে তুলেছেন সাধারণ মানুষের সেই প্রশ্নটি—বিশ্বনেতারা কি সত্যিই জনগণের কথা শুনছেন? তারা কি এখনো দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত?
বার্তায় যে তথ্যটি সবচেয়ে বেশি নাড়া দেয়, তা হলো বৈশ্বিক সামরিক ব্যয়ের চিত্র। মহাসচিব জানান, বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২.৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে—যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। এই ব্যয় বিশ্বের মোট উন্নয়ন সহায়তার চেয়ে তের গুণ বেশি এবং আফ্রিকার সম্মিলিত জিডিপির সমতুল্য। অথচ একই সময়ে দারিদ্র্য, ক্ষুধা, বাস্তুচ্যুতি ও জলবায়ু সংকটে কোটি কোটি মানুষ বিপর্যস্ত।
তিনি সতর্ক করে বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এত বিস্তৃত সংঘাত ও উত্তেজনা বিশ্ব আর দেখেনি। শান্তি ও কূটনীতির জায়গায় শক্তি প্রদর্শন ও যুদ্ধের রাজনীতি বিশ্বকে আরও অনিরাপদ করে তুলছে।
আরও পড়ুন…কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে শান্তি বিঘ্নিত করার যেকোনো চেষ্টা: প্রধান উপদেষ্টা
জাতিসংঘ মহাসচিবের বার্তার মূল সুর স্পষ্ট—একটি নিরাপদ বিশ্ব যুদ্ধের পেছনে অধিক বিনিয়োগে নয়, বরং দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জলবায়ু সুরক্ষায় বিনিয়োগের মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে। শান্তি কখনো অস্ত্রের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় না; শান্তি আসে ন্যায়বিচার ও মানবিক সিদ্ধান্ত থেকে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বের কাছে প্রয়োজনীয় সম্পদের কোনো ঘাটতি নেই। ঘাটতি রয়েছে সঠিক অগ্রাধিকার ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার। মানুষ ও গ্রহকে বাঁচানোর সিদ্ধান্তই প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
২০২৬ সালের দিকে তাকিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—লোক দেখানো বক্তব্য নয়, বরং সাহসী ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
দুঃখ-কষ্টের রাজনীতির পরিবর্তে মানুষ ও পৃথিবীকে বেছে নেওয়ার সময় এখনই। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ নাগরিকদের প্রতিও আহ্বান জানান, প্রত্যেকে যেন নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করে।