টাঙ্গাইল, পটুয়াখালী ও মাগুরায় পৃথক তিনটি অভিযানে পৌরসভা ও সরকারি দপ্তরে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট জেলা ও সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে এসব এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দুদকের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরসভায় তহবিল ও উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
অভিযানে সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, পৌরসভার হিসাবরক্ষক মিজানুর রহমান আছাদ ভবিষ্যৎ তহবিল, আনুতোষিক তহবিল, উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদারদের জামানত এবং সরকারি কোষাগারের ভ্যাট ও আয়করসহ মোট ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৮ টাকা আত্মসাৎ করেন।
পাশাপাশি অতিরিক্ত বেতন নির্ধারণ করে আরও ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৩১৮ টাকা উত্তোলনের প্রমাণও পাওয়া যায়। অভিযানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মসাতের দায় স্বীকার করেছেন।
এছাড়া পৌরসভার সচিব মনিরুজ্জামান প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনোয়ারুল কায়সারের সঙ্গে যোগসাজশ করে এফডিআরের ১২ লাখ ১০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন বলেও অভিযোগ উঠে। তিন পৌরসভায় সর্বমোট ১ কোটি ২৫ লাখ ৫৪ হাজার ৬৬ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুদক।
আরও পড়ুন…রাজশাহীকে ব্যাটিংয়ে পাঠাল চট্টগ্রাম
অন্যদিকে, পটুয়াখালীতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ে ওভারহেড ট্যাংকের কার্যাদেশ প্রদানে ঘুস লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়।
অভিযানে অভিযোগস্থল পরিদর্শন, এলাকাবাসীর বক্তব্য গ্রহণ এবং টেন্ডার প্রক্রিয়াসংক্রান্ত রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়। বিষয়টি পর্যালোচনা করে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এছাড়া মাগুরা জেলায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পার্টনার-ডিএএম প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালায় দুদকের ঝিনাইদহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়। অভিযানে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, নিম্নমানের খাবার সরবরাহ ও নির্ধারিত প্রশিক্ষকের অনুপস্থিতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে দুদক।